Samyukt Kisan Morcha

কৃষির বাজার অবাধ হলে ফের দুর্বার আন্দোলন, হুঁশিয়ারি কিসান মোর্চার

জাতীয়

আমদানি শুল্ক তুলে দিয়ে ভারতের বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্য আনা হলে আন্দোলন তীব্র হবে। ২০২০-২১ যেমন দুর্বার আন্দোলন করেছিলেন কৃষকরা মোদী সরকারকে ফের তেমনই প্রতিবাদের মুখে পড়তে হবে।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে বুধবার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে শতাধিক কৃষক ও খেতমজুর সংগঠনের মঞ্চ সংযুক্ত কিসান মোর্চা।
উল্লেখ্য, ২০২০-২১ পর্বে কৃষকদের টানা লড়াইয়ে তিন কৃষি আইন বাতিল করতে হয়েচিল নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। প্রাণ দিয়েছিলেন প্রায় ৭০০ কৃষক। 
সোমবার গভীর রাতে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানেই তিনি জানান যে আমেরিকার পণ্যে আমদানি শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনতে রাজি হয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিনিময়ে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ শুল্ক আমেরিকা চাপাচ্ছে ভারতের পণ্যে। 
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী জ্বালানি, প্রযুক্তির পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের কৃষি পণ্য আমদানি করবে ভারত। ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কে আমদানি হবে যা এখনকার হিসেবে প্রায় ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা। 
সংসদে বিরোধীরা ব্যাখ্যা দাবি করলেও মঙ্গলবার তা হাজির করেনি নরেন্দ্র মোদী সরকার। তবে পরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। তাঁর দাবি, ভারতের কৃষি এবং ডেয়ারি ক্ষেত্রকে আমদানি ছাড় থেকে একেবারে বাদ রেখে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে আমেরিকার সঙ্গে। 
কিসান মোর্চা বলেছে যে আমেরিকার কৃষি সচিব ব্রুক রোলিন্স একেবারে উলটো কথা বলছেন। রোলিন্সের দাবি ভারতের বিপুল বাজারে আমেরিকার পণ্য ব্যাপক মাত্রায় ঢুকবে। আমেরিকার কৃষি পুষ্ট হবে। কৃষি বাণিজ্যে আমেরিকার ঘাটতি মেটাতে সহায়ক হবে ভারতের সঙ্গে সম্পন্ন চুক্তি। 
কিসান মোর্চা বলেছে, সাংবাদিক সম্মেলনে গয়াল রোলিন্সের বক্তব্যকে খণ্ডন করেননি। পালটা বক্তব্যও জানাননি। গয়ালের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর। সাংবিধানিক পদে আসীন থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন তিনি। 
সারা ভারত কৃষক সভার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক পরেশ পাল বলেছেন, গোটা চুক্তি সম্পর্কে দেশবাসী অন্ধকারে। বয়ান প্রকাশ করেনি দেশের মোদী সরকার। নির্দিষ্ট বিবৃতি দেয়নি। কৃষিপণ্যে আমদানি শুল্ক শূন্য করার অর্থ দেশের বাজারে হু-হু করে আমেরিকার কৃষিপণ্য ঢুকবে। এমনিতেই ফসলের দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। এরপর আরও সর্বনাশ হবে। 
কিসান মোর্চা কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর আরেকটি দাবিকেও খারিজ করেছে। গয়াল বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাকি সর্বদা কৃষিক্ষেত্রকে সুরক্ষিত রেখেছেন। ব্যক্তিগত মূল্য চুকিয়েছেন তার জন্য। অথচ গত বছরের আগস্টে তুলোর ১১ শতাংশ আমদানি শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছিল। দেশে তুলোচাষের এলাকায় কৃষক আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। কারণ তাঁরা ফসলের দাম পান না। বিদেশ থেকে আমদানি আরও সহজ করে দেওয়ায় চরম সঙ্কটে তুলোচাষিরা।
কিসান মোর্চা তথ্য হিসেবে পেশ করে ২০২৪’র নভেম্বর থেকে ২০২৫’র নভেম্বরে আমেরিকা থেকে তুলোর আমদানি প্রায় দ্বিগুন হওয়ার বিষয়টি। ডলারের অঙ্কে তুলোর আমদানিতে খরচ বেড়েছে ৯৫.৫০ শতাংশ। 
কিসানসভা মনে করিয়েছে যে স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে আসীন হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। অথচ প্রকৃত খরচের দেড়গুন দাম কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি ঘোষণাতেই কম রয়েছে দাম। সরকার ঘোষিত দামের চেয়েও বাস্তবে কম দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। 
কিসান মোর্চা বলেছে যে মোদী সরকার একেবারে আত্মসমর্পণ করে বসে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, জনতার স্বার্থ রক্ষা করার অবস্থাতেই নেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Comments :0

Login to leave a comment