PROBANDHYA | AVIJIT SAHA | LABOUR CODES | MUKTADHARA | 5 FEBRUARY 2026 | 3rd YEAR

প্রবন্ধ | অভিজিৎ সাহা | শ্রমিক বিরোধী ফ্যাসিবাদী শ্রম কোডই বুঝিয়ে দেয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবসের প্রাসঙ্গিকতা | মুক্তধারা | ২০২৬ ফেব্রুয়ারি ৫ | বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

PROBANDHYA  AVIJIT SAHA  LABOUR CODES  MUKTADHARA  5 FEBRUARY 2026  3rd YEAR

প্রবন্ধ 

মুক্তধারা 

শ্রমিক বিরোধী ফ্যাসিবাদী শ্রম কোডই বুঝিয়ে দেয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবসের প্রাসঙ্গিকতা

অভিজিৎ সাহা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ৫ | বর্ষ ৩


মানব সভ্যতা বিকাশের শুরু থেকে , অর্থাৎ বন্য হিংস্র পশুদের আক্রমণ থেকে নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ সঙ্ঘবদ্ধ হতে শুরু করলো, ঠিক তখন থেকেই শুরু হলো ছোট ছোট দল কিংবা গোষ্ঠীর আবির্ভাব । আবার এই ছোট ছোট দল বা গোষ্ঠী পরিচালনায় একজন করে যিঁনি বয়ঃজ্যেষ্ঠ বা শক্তিশালী তিনি হলেন দলপতি বা সর্দার, অর্থাৎ যিঁনি সর্দার বা দলপতি হলেন তিনি নিজে কোন কাজ না করে দলের সবাইকে দিয়ে শ্রম করিয়ে নিতেন যেমন, খাদ্য সংগ্রহ বা আশ্রয়ের জন্য থাকার ব্যবস্থা ইত্যাদি । আবার এই ছোট ছোট দল বা গোষ্ঠীর মধ্যে কোন দল বা গোষ্ঠী যদি দুর্বল কিংবা সংখ্যা লঘিষ্ঠ হয়, তখন সংখ্যা গরিষ্ঠ বা শক্তিশালী দল অনায়াসে দুর্বল গোষ্ঠীর প্রতি আধিপত্য বিস্তারের জন্য তাদের উপর বল পূর্বক কর্তৃত্ব স্থাপন করতো কিংবা করতে চাইতো । অর্থাৎ সেইদিন থেকেই শুরু শুরু হয়েছিল শোষণ ব্যবস্থা । মানে একদল মানুষ যারা দুর্বল পিছিয়ে পরা তারা সেদিন থেকেই আজ পযন্ত শোষিত শ্রেণীর পর্যায় থেকে গেল আর একদল শক্তিমান চতুর নিজেদের বুদ্ধিমত্তার জোরে সমাজের বৃহত্তর অংশকে শোষণ  করে চললো কিন্তু একটা সময় যখন তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়ে  তারা বুঝতে শিখলো লড়াই ছাড়া তাদের আর কোন পথ নেই, ঠিক তখন অর্থাৎ ১৮৮৬ সালের ১লা মে মাসে ঘটে যাওয়া শ্রমিকদের অধিকার আদাইয়ের ঐতিহাসিক আন্দোলন ও আত্মাহুতির ঘটনা। যা শ্রমিকশ্রেণীকে বিশ্বের দরবারে       " দুনিয়ার মজদুর এক হও " এই শ্লোগানের মধ্যে দিয়ে একাত্মতা ও একই পতাকা তলে নিয়ে আসে । পরবর্তী কালে অর্থাৎ ১৮৮৯ সালে কমঃ ফেডরিক এঙ্গেলসের নেতৃত্বে প্যারিস আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১৮৯০ সাল  ১লা মে থেকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস রূপে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতি বছর পালন করা হবে। অবশ্য খুব সহজেই এই মৌলিক অধিকার পাওয়া গিয়েছে এমটা ভাববার কোন অবকাশ নেই কারণ ঐ মুহূর্তে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় থেকেই লড়াই সংগ্রাম ও বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্যে দিয়ে এই সামান্য অধিকার টুকু শ্রমিকরা অর্জন করতে পেরেছিল , যেমন ১৭৬০ সাল থেকে প্রায় ১৮৩২ সাল পযন্ত চলা ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব আবার ১৮৮০ সালে আমেরিকায় প্রথম আট ঘন্টার দাবি শ্রমিকরা উত্থাপন করেন, কারণ তখন সেখানকার শ্রমিকদের কাজে টিকে থাকতে হলে, ১০ঘন্টা, ১২ঘন্টা আবার কোন কোন জায়গায় মালিকের জোর জবরদস্তিতে ১৬ঘন্টা এমনকি ১৮ঘন্টা পযন্ত কাজ করতে হতো, বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক বা মজুরি পেতো তাতে করে তাদের পক্ষে পরিবারের ভরণপোষণ করা সম্ভব হতো না। এদিকে সুরক্ষা বিহীন পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে, রোগ, ব্যাধি, আঘাতে জর্জরিত হয়ে অকালেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পরতো। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৪সালে কানাডায় Federation of Organised Trades and Labour Union of The United States of Canada নামে সংগঠন গড়ে ওঠে পরবর্তী কালে ১৮৮৬সালে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে American Federation of Labour রাখা হয় এবং সংগঠনের মাধ্যমে নিজেরা সংগঠিত হতে থাকে এবং সংগঠিত শ্রমিক ঐক্য আট ঘন্টা কাজের মজুরি নির্ধারণ প্রস্তাব পাস করে এবং মালিক শ্রেণীকে এই প্রস্তাব পাসের সময় সূচি আকারে ১৮৮৬ সালের ১লা মে পযন্ত বেঁধে দেন। কিন্তু মালিকপক্ষ শ্রমিকদের এই নায্য দাবি উপেক্ষা করতে থাকে ঠিক সেই সময় ঢালাই শ্রমিক সিলভিসের নেতৃত্বে ১৮৮৬ সালের ১লা মে তারিখে ধর্মঘটের ডাক দেয় কিন্তু মালিকপক্ষ শ্রমিকদের এই নায্য দাবি আট ঘন্টা কাজের প্রস্তাব নিয়ে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করলে , শ্রমিকরা প্রস্তাব বাস্তবায়নে আরও সঙ্ঘবদ্ধ ও প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন, এমন সময় (Alarm) নামে একটি পত্রিকায় শ্রমিকদের প্ররোচিত করার উদ্দেশে একটি খবর ছাপা হয় "একজন শ্রমিক আট ঘন্টা কাজ করুক কি দশ ঘণ্টা করুক , সে দাস বলেই বিবেচিত হবে " এই ধরনের একটা বিষয় কাগজে ছাপা হয়ে বাহিরে আসলে, শ্রমিকদের মধ্যে দাবানলের ন্যায় অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সমাজতন্ত্রিক দলগুলো একত্রিত হয়ে শ্রমিক সংগঠনের পাশে এসে দাঁড়ায়। পাশাপাশি এই ধর্মঘটকে ভাঙ্গার জন্য মালিকপক্ষ স্থানীয় সরকারকে অর্থ দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এতদসত্যেও  ১লা মে ধর্মঘটের দিন প্রায় ৩লক্ষ শ্রমিক রাস্তায় নেমে এসে , ধর্মঘট কে সাফল্যের দোর গোড়ায় পৌছে দেয় । যথারীতি ঐদিন বিকেলে শিকাগো শহরের কেন্দ্র স্থলে একটি সভার আয়োজন করা হয়, সেই সভায় প্রায় ৪০হাজার শ্রমিক জমায়েতে নেতৃবৃন্দের জ্বালাময়ী ভাষণে শ্রমিকরা আরও সঙ্ঘবদ্ধ হলে ৪ঠা মে সন্ধ্যাবেলায় হাল্কা বৃষ্টির মধ্যে শ্রমিকনেতা আগস্ট স্পাইজ জড়ো হওয়া শ্রমিকদের উদ্দেশে বক্তব্য পেশ করছিলেন এমন সময় কিছু দূরে দাড়িয়ে থাকা পুলিশের সামনে হঠাৎ একটি বোমা বিস্ফারিত হয় এবং সেই বিস্ফোরণে একজন পুলিশ সহ ৬জন সাধারণ শ্রমিকের মৃত্যু ও ১১জন শ্রমিক আহত হন , এই বিস্ফোরণের পরপরই অতর্কিতে পুলিশ বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়ে ১১জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটায় ও বহু শ্রমিক আহত হন । পরবর্তীকালে পুলিশ হত্যা মামলায় ১৮৮৭সালে শ্রমিক নেতা ফিসার, স্পাইজ, এঞ্জেল ও পার্সন সহ মোট ৬জন শ্রমিক নেতাকে ফাঁসিতে একজন শ্রমিকনেতা নিবকে যাবজ্জীবন  অন্য আর একজন ল্যাংলিঙ্গকে আগের রাতে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেন, কিন্তু পরবর্তীকালে ১৮৯৩ সালের ২৬শে জুন ইলিনয়ের গভর্নর এই আটজনকেই নিরপরাধ বলে ঘোষণা করেন, সুতরাং এই পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থায় ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের কায়েমি স্বার্থে পুঁজিবাদকে টিকিয়ে রাখতে এবং পুঁজিবাদের ঘনীভূত সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শ্রমিকশ্রেণীকেই বেছে নেয়া হয় । ভারতবর্ষের বর্তমান শাসকশ্রেণী নিঃসন্দেহে ফ্যাসিবাদী কায়দায় সেই কাজটিই করে চলেছেন । স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষে ইতিপূর্বে কোন সরকারই লাগামছাড়া শ্রমিক বিদ্বেষী হয়ে ওঠেনি । আমরা আগেও দেখেছি, জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে জনগনের স্বার্থে ১৯৬৯সালে ১৪টি ব্যাংক কে অধিগ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় করণ করতে আবার ১৯৯১সালে পি ভি নরসিমা রাওয়ের আমলে মনমোহন সিংহের অর্থমন্ত্রীত্বে ভারতবর্ষকে বিশ্বায়নের পথে ঠেলে দিয়ে বাজার অর্থনীতির পথে হাঁটতে বাধ্য করা হয় । এই ব্যপারে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিংহের ভূমিকা ছিল উল্লেখ যোগ্য, আমরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কে , ব্যাংক জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেওয়া কে অভিনন্দন জানিয়ে ছিলাম, ঠিক তেমন ভাবেই বিশ্বায়নের উদার অর্থনীতি কে দেশের স্বার্থে বিরোধিতা করেছি, কিন্তু কোনও সময়ই মনে হয়নি সরকার সরকার পুরোপুরি শ্রমিক বিরোধী । কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় সরকারই কর্পোরেটের স্বার্থে পুঁজির দালালি করে শ্রমিক বিরোধী ফ্যাসিবাদী কায়দায় ৪টি শ্রমকোড  অনায়াসে লাগু করে দিল (যদিও এখনও পঃবঙ্গে লাগু হয়নি) অথচ পঃবঙ্গ সরকার মুখে যতো হম্বিতম্বি কার্যক্ষেত্রে ওরাও সেটাই চায় , যেটা আর এস এস এর বকলমে বিজেপি করতে চায় ,শুধু মুখেই ছদ্ম বিরোধিতা , আসলে নাগপুরের ফ্যাক্টরিতে একই প্রোডাক্ট তৈরি হয় লেবেলটাই শুধুমাত্র আলাদা । কিন্তু মানুষ এখন ধরে ফেলেছে, তাই বিজেমূল কে আর বিশ্বাস করে না । অথচ দেশের ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন বারে বারে সরকারের কাছে আপত্তি জানিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার শ্রমজীবী মানুষের কোনও আপত্তিকেই গ্রাহ্য না করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশের মধ্যে চালু থাকা ৪৪টি শ্রম আইনের মধ্যে ১৫টিকে সম্পূর্ণ  অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে ঘোষণা করে বর্তমানে কার্যকর থাকা ২৯টি শ্রম আইন কে এক নিমেষেই বাতিল করে আনা হলো মাত্র ৪টিতে যা শ্রমিকদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা কিংবা প্রতারণার সামিল, এই শ্রমকোড এমন সময় নিয়ে আসা হলো যখন দেশের মানুষ সি, আই, আর নিয়ে ব্যস্ত ঠিক সেই সময় । অর্থাৎ চোর তখনই চুরি করে যখন গৃহস্থ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে।এদিকে গোদিমিডিয়া শ্রমিক বিরোধী এই শ্রমকোডকে ঝা চকচকে মোড়কে পরিবেশন করতে ব্যস্ত। অথচ শ্রমিকের যে বিষয় গুলো মৌলিক অধিকারের পর্যায় এতোদিন ছিল, সেই গুলোকে অনেকটাই খর্ব করে , কর্পোরেটের মুনাফাকে পুঞ্জীভূত করা হলো। এই শ্রমকোডের যে যে বিষয় গুলো শ্রমিক অধিকারকে খর্ব করে তার মধ্যে অন্যতম, শ্রমিক  সংগঠনকে ব্যহত করার উদ্দেশে কিছু শর্ত চাপানো হয়েছে এই শ্রমকোডে যেমন, সংগঠনকে Registration করার সব ক্ষেত্রেই ১০ শতাংশ বা ১০০ শ্রমিকের সমর্থন থাকা জরুরি, ধর্মঘটকে নিষিদ্ধ করার জন্য সব ক্ষেত্রেই ১৪দিনের নোটিশ বাধ্যতামূলক, আবার কোন রকম আলোচনা চলাকালীন ধর্মঘট নিষিদ্ধ রূপে গণ্য হবে ।অর্থাৎ ধর্মঘটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে। আবার কাজের সময় বাড়িয়ে ১০ঘন্টা, ১২ঘন্টা কিংবা ১৬ঘন্টাও কর্ম করিয়ে নিতে পারবে, যে প্রভিডেন্ট ফান্ডে এখনও পর্যন্ত শ্রমিকের ১২শতাংশ মূলবেতন থেকে কাটা হয় এবং মালিকপক্ষ কেও সমহারে ঐ টাকা শ্রমিকের ফান্ডে রাখতে হতো কিন্তু এখন সেই পরিমাণ হ্রাস করে হয়েছে মূল বেতনের ১০%শতাংশ তার মানে এখানেও কারচুপি করে মালিকপক্ষের ২% শতাংশ অর্থ বাঁচিয়ে দেওয়া হলো। আগে যেখানে ১০০ কিংবা তার অধিক শ্রমিক কাজ করতো, সেখানে শ্রমিক ছাঁটাই করতে করতে গেলে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হতো এখন সেই একই কারখানায়, শ্রমিক ছাঁটাই  করতে গেলে ২৯৯জন পর্যন্ত কোন অনুমতি সরকার থেকে নিতে হবে না, অর্থাৎ এককথায় ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ করে দেওয়া হলো কার স্বার্থে শ্রমিককেই সেইটা বুঝে নিতে হবে। আমাদের দেশে শিল্পক্ষেত্রে ৮০%শতাংশ শিল্পেই ৩০০ জন শ্রমিকের কম কাজ করে, কোম্পানি গুলো যেকোনো কাজে চুক্তি ভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করতে পারবে, অর্থাৎ কাজের কোনও নিরাপত্তা থাকলো না , আবার বলা হচ্ছে আগে যেখানে ৫বছর কর্ম করিয়ে নেবার পর যদি কোন শ্রমিক কাজে অব্যাহতি দেওয়া হতো তবেই সে গ্রাচুইটি দাবি করতে পারতো কিন্তু এখন এক বছর কাজ করার পরেই সে গ্রাচুইটি পাওয়ার হকদার, কিন্তু বাস্তবে ঠিক উল্টো,অর্থাৎ আপনাকে যাহাতে গ্রাচুইটি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে এই শ্রমকোডে , তারমানে আপনাকে পার্মানেন্ট তালিকাভুক্ত কোম্পানি হতেই দেবে না ঢালাও চুক্তি ভিত্তিক ব্যবস্থা করা হয়েছে এই শ্রমকোডে ১১ মাসের চুক্তি করে আপনাকে বসিয়ে দেওয়া হবে , তখন কি করবেন আপনি,  চাকরি হারাবার ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে ট্রেড ইউনিয়ন করাই ছেড়ে দেবেন কর্পোরেট হাউস ও সরকার সেটাই চায় । ধরুন মহিলাদের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি কিংবা সিনিয়ারিটি অনুযায়ী প্রমোশন কোনও কিছুই আপনার অধিকারের পর্যায় থাকবে না তখন আপনি কি দাবী করবেন যদি আপনার ইউনিয়ন করার অধিকারই না থাকে ? একবার অন্তত ভাবতে শিখুন । আস্তে আস্তে মধ্যযুগীয় "দাসপ্রথা" র যুগে আপনাকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে । সুতরাং লড়াই সংগ্রামের জায়গাটাই কেড়ে নিতে চাইছে বর্তমানের সরকার। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় এটুকু বুঝতে পেরেছি লড়াই ছাড়া শ্রমিকের বাঁচার কোনও পথ নেই, শুরু থেকে আজ অব্দি মানুষ যেটুকু  অধিকার অর্জন করতে পেরেছে সবটাই আন্দোলন লড়াই সংগ্রাম করে, সেই আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির ইতিহাস হোক কিংবা তেভাগা জমির আন্দোলন হোক বা খাদ্য আন্দোলন হোক এবং সেইদিনে দিল্লীর বুকে ঘটে যাওয়া  কৃষকের আন্দোলন হোক শেষ কথা বলবে শ্রমিক, কৃষক মেহনতী মানুষই তাই আমাদের শ্লোগান "লড়াই লড়াই লড়াই চাই লড়াই করে বাঁচতে চাই " দুনিয়ার মজদুর এক হও!

Comments :0

Login to leave a comment