রণদীপ মিত্র: বোলপুর
জোট বেঁধে পথে নেমে জমি মাফিয়াদের দখল করা জমির পিলার উপড়ে ফেলেছেন আদিবাসীরা। বাপ-ঠাকুরদার জমির দখল নিতে রবিবার আদিবাসীদের উত্তাল বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে কোপাইয়ের পাড়।
এদিন বিকেল থেকেই তির, ধনুক, ধামসা মাদল নিয়ে নিজেদের জাহের থান এবং শ্মশান বাঁচাতে বিক্ষোভের ডাক দেন আদিবাসীরা। বল্লভপুরের আমার কুঠির সংলগ্ন খেলেডাঙায়ে জড়ো হয়ে জমি মাফিয়াদের দখল করা জমির কাঁটা তার ও পিলার ভেঙে ফেলেন আদিবাসীরা।
তাঁদের ক্ষোভ, বোলপুর মহকুমা জুড়েই একের পর এক আদিবাসী এলাকার বর্গাদার ও ভাগচাষীদের গায়ের জোরে উচ্ছেদ করা হয়েছে জমি থেকে। তাঁরা বলেছেন, ভূমি দপ্তর সহ প্রশাসনকে জানিও কোনও সুরাহা মিলছে না। তাই নিজেদের বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে থাকা জাহের থান এবং শ্মশান নিজেদের দখলে নিয়েছি। এলাকার এক জাহের থান ও শ্মশানের জমি স্থানীয় জমি হাঙররা দুবাইয়ের এক ব্যক্তিকে বিক্রি করে দিয়েছে বলেই অভিযোগ। সেই খবর কানে পৌছোতেই তপ্ত হয়েছে আদিবাসী জনপদ। তার জেরেই এদিন অসন্তোষের আঁচ তুঙ্গে ওঠে। এলাকার আদিবাসী সমাজের নেতা জীবন মুর্মুর বক্তব্য, ‘‘ গরিব আদিবাসী পরিবারগুলোর জমি কখনও ভুল বুঝিয়ে তো কখনও চোখ রাঙিয়ে দখল করা হচ্ছে। বর্গাজমি, পাট্টা জমি থেকেও জোর করে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই আমরা জমি মাফিয়াদের ঘিরে ফেলা কাঁটাতার পিলার তুলে ফেলেছি। আর সহ্য হচ্ছে না।’’
বিক্ষোভে শামিল আদিবাসী জনজাতি ভূমিরক্ষা কমিটির তরফে বৈদ্যনাথ মুর্মু ও শিবু সরেনরা জানিয়েছেন, ‘‘আদিবাসী প্রধান এলাকাগুলিকে বেছে বেছে সরকারি খাস জমি, পাট্টা জমি থেকে গরিবদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না শ্মশান। জমির দালাল, মাফিয়াদের দৌরাত্মে একের পর এক জমি বেহাত হচ্ছে। গড়ে উঠছে একের পর এক আবাসন, রিসোর্ট, হোটেল। বারংবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও সুরাহা মিলছে না। বল্লভপুর আমার কুঠির সংলগ্ন জাহেরথানের দেড় বিঘা এবং শ্মশানের দু'বিঘা জমি ১৫দিন আগে রাতারাতি দালালচক্র তারকাটা পিলার দিয়ে ঘিরে ফেলে। এর প্রতিবাদেই আদিবাসী মানুষ সকলে মিলিত হয়ে জোরপূর্বক বেদখল হয়ে যাওয়া জমি ফিরিয়েছেন।’’
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খাস জমি, পাট্টার জমি থেকে গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও তুঙ্গে উঠছে। পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের মেয়াদে ভূমিসংস্কারের কর্মসূচিতে গরিব কৃষিজীবী জনতাকে দেওয়া হয়েছিল পাট্টা। খাস জমিও প্রান্তিক অংশ ব্যবহার করতেন। তৃণমূল সরকারের মেয়াদে উচ্ছেদ চালাচ্ছে জমি মাফিয়ারা।
Comments :0