শ্রম কোড বাতিল করার দাবিতে ও শ্রমিক কর্মচারীদের ওপর শোষণকারী মালিকের তাবেদার দিল্লীর বিজেপি সরকার রাজ্যের সরকারের শ্রমিক বিরোধী নীতির প্রতিবাদে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ও এরাজ্যে শিল্প ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল করার দাবিতে গেট সভা হল হুগলি রিষড়ার বার্জার পেইন্টস কারখানার গেটে। গেট সভায় বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক তীর্থঙ্কর রায়। তিনি বলেন, "শ্রম কোড চালু করে শ্রমিকদের কাজের জন্য নির্ধারিত সময় ১২ ঘন্টা করতে চাইছে কেন্দ্রের সরকার। নতুন আইনে না আছে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার নির্ধারিত ধারণা। না আছে আহত বা মারা গেলে তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা। পুরোনো আইন গুলোকে তুলে দিয়ে মালিকদের স্বার্থে শ্রমিক শোষণ করতে আইন এনেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সেই আইন যাতে কার্যকর না হয় তাই জন্য ধর্মঘট। এইবারে রোখা না গেলে শ্রমিকদের আর কোনও অধিকার সুরক্ষিত থাকবে না।" এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা সুদীপ সাহা, শ্যামল মিত্র প্রমুখ।
মোদী সরকার শ্রমিক স্বার্থ না দেখে কর্পোরেট মালিকের স্বার্থে চারটি শ্রমকোড চালু করেছে। এর আইন বাতিলের দাবি সহ একাধিক দাবিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে সাধারন ধর্মঘট ও রাজ্যে শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে সিআইটিইউ, কৃষক সভা ও খেতমজুর ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে শনিবার বীরভূমের কীর্ণাহারে শ্রমজীবি মানুষদের নিয়ে একটি কনভেনশন হয়। কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ বীরভূম জেলা সভাপতি মহম্মদ কামালউদ্দিন, সুদেব থান্দার প্রমূখ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গণআন্দোলনের রাজ্য নেত্রী শ্যমলী প্রধান। নেতৃবৃন্দ বলেন, "মোদি দিদি এখন কর্পোরেট মালিকদের দালালি করে শ্রমিকদের অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকার কেডে নিচ্ছে। দেশের জাতীয় সম্পতি দেদার বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে নয়া শ্রম আইন চালু করে শ্রমিকদের আবার ক্রীতদাসে পরিনত করতে চাইছে বিজেপি সরকার। এর বিরুদ্ধে সবাই জোট বেঁধে এই ধর্মঘটকে সফল করে তুলতে হবে।" কনভেনশন শেষে ধর্মঘটের প্রচারে একটি মিছিল এলাকা পরিক্রমা করে। কনভেনশন পরিচালনা করেন আমেরুল মুর্শেদ।
১২ ফেব্রুয়ারি শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার ধাত্রীগ্রাম বাজারে ব্যাপক প্রচার অভিযান চালানো হয়। সিআইটিইউ'র কালনা ১ ব্লক সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে মিছিল করে বাজারের মানুষজনকে শিল্প ধর্মঘট সফল করার জন্য আহবান জানানো হয়। পাশাপাশি এদিন ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচারপত্র বিলি ও পোস্টারিং করা হয়। এই প্রচার অভিযান গোটা ধাত্রীগ্রাম বাজার জুড়ে মানুষের মধ্যে সারা ফেলে দেয়। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন আলিম শেখ, শাহাবুদ্দিন শেখ, সুভাষ সরকার সহ নেতৃবৃন্দ।
Comments :0