US Iran Talks

সামরিক আঘাতের হুমকি ছুঁড়ে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে আমেরিকা

আন্তর্জাতিক

আব্বাস আরাঘচি ও স্টিভ উইটকফ।

হোয়াইট হাউস থেকে হুমকি ছুঁড়ে দিয়ে আলোচনায় বসেছে আমেরিকা। আর ইরানও জানিয়েছে যে পারস্পরিক সম্মানজনক বোঝাপড়ার দিকে না এগলে আলোচনা অর্থবহ হতে পারে না।
ওমানের মাস্কটে আলোচনায় বসেছে আমেরিকা এবং ইরান। সামরিক সংঘাতের আবহ এবং আশঙ্কা পুরোদমেই রয়েছে। কেবল মধ্য প্রাচ্য নয়, বিশ্বের বড় অংশই নজর রাখছে মাস্কটের বৈঠকের ওপর। 
বৈঠকে যোগ দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আমেরিকা পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি ডোানল্ড ট্রাম্পের বিশেষ পরমার্শদাতা জারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফকে। ইজরায়েল-হামাস আলোচনার সময়েই আমেরিকার এই দুই প্রতিনিধির সক্রিয়তা দেখা গিয়েছিল। 
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যরোলিনা লেভিট বলেছেন, ‘‘আলোচনা চললেও মনে রাখতে হবে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পথই খোলা রয়েছে। কূটনীতি যেমন চালাচ্ছেন তেমনই রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর সামরিক বাহিনীর প্রধানও।’’
ইরানের বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, ‘‘দুই দেশের পক্ষেই সন্তোষজনক এবং স্বচ্ছ বোঝাপড়া আশা করা হচ্ছে। দুই দেশের পক্ষেই সম্মানজনক হয় এমন বোঝাপড়া চাইছে বলেই ইরান বসেছে আলোচনার টেবিলে।’’
ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম বলছে যে ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ন্ত্রণে চাপ দিতে চাইছে আমেরিকা। হিজবুল্লা বা হামাসের মতো সংগঠনকে মদতের বিরোধিতা চালাবে। সেই সঙ্গে ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন নিয়ে আমেরিকা অভিযোগ তুলবে ফের।
তবে মধ্য প্রাচ্যের একাধিক সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য আমেরিকার বরাবরের লক্ষ্য ইরানের তেল। সেই সঙ্গে নিজেদের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী ইজরায়েলের জন্য একচ্ছত্র জমি তৈরি করতে চাইছে ওয়াশিংটন। ইরানে বিক্ষোভের পিছনে রয়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কট। ইরানকে একতরফা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফেলে সেই সঙ্কটকে কঠিন করেছে আমেরিকাই। তখন ইরানের জনগণের কথা মনে পড়েনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করিয়েছেন যে দু’দেশের মধ্যে বিরোধ বহু পুরনো। ১৯৫৩-তে ইরানে প্রথম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দিয়েছিল আমেরিকাই। কারণ মহম্মদ মোসাদেঘ সরকার পেট্রোলিয়াম সম্পদের জাতীয়করণ করেছিল। আমেরিকা সেই সরকারকে সরিয়ে শাহ মহম্মদ রেজা পহলভিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়। সিআইএ’র এই চক্রান্তে অস্থির হয় ইরান। সে সময়েই ইরানে অসামরিক ব্যবহারে পরমাণু চুল্লি বসানো হয়েছিল আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডিডি আইসেনহাওয়ারের ‘আ্যাটম ফর পিস’ কর্মসূচিতে। 
শাহ শাসনে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সমানে বাড়ছিল চলছিল দমনও। ১৯৭৯-তে হয় ইসলামিক শক্তিগুলির নেতৃত্বে প্রবল বিদ্রোহ। শাহ দেশ ছেড়ে পালিয়ে আমেরিকায় আশ্রয় নেন। রাষ্ট্রের প্রধান হন আয়াতুল্লা খোমেনেই। এই ইতিহাস ইরানের পক্ষে ভুলে থাকা সম্ভব নয়। 
আমেরিকা সামরিক শক্তির হুমকি ছুঁড়লেও গত বছর ইজরায়েল-আমেরিকা অক্ষের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের পালটা আঘাত যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। কেবল ইজরায়েল নয়, কাতারে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছিল তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র।

Comments :0

Login to leave a comment