Lok Sabha

ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে বিরোধীরা

জাতীয়

লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে কংগ্রেস। সোমবার ছিল ইন্ডিয়ার সাংসদদের ঘরোয়া বৈঠক। সেখানে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয় অনাস্থা প্রস্তাবের কথা। সূত্রের খবর সেই বৈঠকে বিরোধীদের মধ্যে থেকে অনেকেই বলেন অধিবেশন চলতে দেওয়া হোক, কারণ তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বলার সুযোগ পায়নি। লোকসভায় রাহুল গান্ধীকে বলতে না দেওয়ার অভিযোগে বার বার উত্তপ্ত হয়েছে সংসদ। মূলতুবি হয়েছে অধিবেশন।
বিরোধী সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে স্পিকারের দিকে তারা অভিযোগ করছেন। রাহুল প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের অংশবিশেষ পাঠ করতে চেয়েছিলেন। ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যা সংক্রান্ত সেই নথি রাহুল গান্ধী নিজে প্রত্যয়িত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও স্পিকার তাঁকে তা পড়ার অনুমতি দেননি।
একদিকে রাহুল গান্ধীকে বাধা দেওয়া হলেও, অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় পাঠ করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি চেয়ারম্যান তাকে থামতে বললেও তিনি তা শোনেননি। যার বিরুদ্ধে স্পিকার কোন ব্যবস্থাই নেননি।
গত সপ্তাহে স্পিকার দাবি করেছিলেন যে বিরোধী সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর অপ্রত্যাশিত কিছু করার পরিকল্পনা করছিলেন, যার ফলে সংসদ স্থগিত করতে হয়। এই দাবিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ওপর হাত তোলার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি এখন স্পিকারের আড়ালে লুকোচ্ছেন। তাঁর সাহস নেই সত্যের মুখোমুখি হওয়ার।’
গত মঙ্গলবার সংসদে চরম বিশৃঙ্খলার জেরে হিবি ইডেন, অমরিন্দর রাজা ওয়ারিং সহ মোট আটজন কংগ্রেস সাংসদ এবং একজন সিপিআই(এম) সাংসদকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। 
তবে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত ৫০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিরোধীরা একজোট হলে এই সংখ্যা জোগাড় করা কঠিন হবে না। তবে বর্তমান সংখ্যাতত্ত্বে এই প্রস্তাব পাস হওয়া কঠিন হলেও, এটি সরকারের ওপর নৈতিক চাপ তৈরির একটি বড় অস্ত্র হতে চলেছে।

Comments :0

Login to leave a comment