Caste Certificate Calcutta High Court

সওয়াল বিকাশ ভট্টাচার্যের, জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

রাজ্য কলকাতা

জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জারি করেছে এই অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ। 
গত ১৪ মে রাজ্যের বিজেপি সরকার জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১১-র পর যত জাতিগত শংসাপত্র ‘দুয়ারে সরকার’ ধরনের সরকারি কর্মসূচিতে দেওয়া হয়েছিল সব যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 
কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অরিজিৎ ব্যানার্জির ডিভিশন বেঞ্চে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। 
মঙ্গলবার হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল সওয়ালে বলেন, ২০১১ সালের পর কেবল ভোটার কার্ডের ভিত্তিতে যে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল তা যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। প্যান কার্ডের ভিত্তিতে দেওয়া জাতিগত শংসাপত্র ফের খতিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। 
কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলায় নির্বিচারে ‘যাচাই’ প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তোলা হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ভিত্তিতে জাতিগত শংসাপত্রের বিষয়টি বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত কিনা তোলা হয় সে প্রশ্ন।
আইন বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’ জানাচ্ছে যে অ্যাডভোকেট জেনারেল এদিন সওয়ালে বলেন কেবল এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদের ভিত্তিতে জাতিগত শংসাপত্র খারিজ করা হবে না। 
কিন্তু বিচারপতিরা পালটা বলেন যে এসআইআর-কে বিবেচনায় রেখে জাতিগত শংসাপত্র পুনর্বিবেচনাও যুক্তিযুক্ত নয়। বিচারপতিরা বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার আগ্রহ আদালতের নেই। তবে রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে এসআইআর’র ভিত্তিতে বাদ পড়তে পারেন প্রকৃত শংসাপত্রের অধিকারীরা। 
জনস্বার্থ আবেদনের পক্ষে বরিষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য সওয়াল করেন। তিনি সওয়ালে বলেন, রাজ্যের পুনর্বিবেচনা করার অধিকার রয়েছে। জাতিগত শংসাপত্র পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে না। কিন্তু যে পদ্ধতিতে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা আপত্তিজনক। 
আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, কোনও ক্ষেত্রে জাল শংসাপত্র দেওয়া হতে পারে। প্রশাসন সেক্ষেত্রে অভিযোগের জন্য অপেক্ষাও করতে পারে। একথা আমরা বলছি না যে জাতিগত শংসাপত্রের পুনর্বিবেচনা হতে পারে না। কিন্তু ২০১১-র পর সব শংসাপত্রেরই পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment