Tarapith Fire

রাতেই আলিপুদুবারে ফিরতে পারে তারাপীঠে নিহত তিন বন্ধুর দেহ

রাজ্য জেলা

কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিহত কমল রায়ের স্ত্রী।

শম্ভু চরণ নাথ: আলিপুরদুয়ার
মঙ্গলবার রাতেই এম্বুলেন্স করে ফিরতে পারে বীরভূমের তারাপীঠে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আলিপুরদুয়ার জেলার তিন বন্ধুর মৃতদেহ। মৃতরা হলেন আলিপুরদুয়ার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমিত পাল(৪৫), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চামড়া গুদাম লাইনের বাসিন্দা সুবীর সাহা(৪৫) এবং আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের তপসিখাতার পাকুরিতলা এলাকার বাসিন্দা কমল রায় (৪০)। কমল পেশায় গাড়িচালক, সুবীর এলআইসি এজেন্টের পাশাপাশি ওষুধের ব্যবসা করতেন এবং অমিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তিন বন্ধু গত ১৪ আগস্ট তারাপীঠে যান। সোমবার তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনজনই। তাঁদের দেহ আলিপুরদুয়ারে নিয়ে আসার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ তারাপীঠের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। প্রশাসনের অনুমান, মঙ্গলবার গভীর রাত অথবা বুধবার ভোরে দেহগুলি আলিপুরদুয়ারে পৌঁছতে পারে।
তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তদন্তে নেমে হোটেলের মালিক কল্যাণ পালের পর তাঁর বাবা প্রবীর পালকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। সোমবার মধ্যরাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে তারাপীঠ থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বাবা-ছেলে ওই হোটেলটি পরিচালনা করতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে আগুন লাগার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। পুলিশ ৪৩ জনকে বের করে আনে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকজন। নিহত ৯ জনের মধ্যে ৫ জনই মেঘালয়ের বাসিন্দা এবং তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে দু'জন শিশুও রয়েছে। রয়েছেন আলিপুরদুয়ারের তিন বন্ধুও।‌
এদিন আলিপুরদুয়ারের তপসিখাতার পাকুরিতলায় কমল রায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা ও স্ত্রী মল্লিকা রায়। মল্লিকা বলেন, ‘‘রবিবার রাতেও ভিডিওকলে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। সোমবার জল ঢেলে বাড়ি ফেরার কথা ছিল ওর। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। আমরা শেষ হয়ে গেলাম। ওকে ছাড়া কীভাবে বাঁচব? কী ভাবেই চলবে পরিবার?’’
অন্যদিকে, সুবীরের দাদা সুজিত সাহা জানান, প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে তাঁরা তারাপীঠে যেতেন। এবারও যাওয়ার আগে সুবীর জানিয়েছিলেন, সোমবার ফিরবো। তিনি বলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকেই অমিত আর সুবীর বন্ধু। দু’জনের বাড়িও বস্কা ফিডার রোডের এপার-ওপার।’’ তবে এই ঘটনায় আলিপুরদুয়ার জেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের জন্য ঘোষিত ৯ লক্ষ টাকার মধ্যে ৪ লক্ষ টাকা জেলাশাসকের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ৫ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। অগ্নিকান্ডের জেরে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বিশেষ পরিদর্শন দল গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। সেই দলের প্রথম বৈঠক থেকেই বিভিন্ন গাফিলতির কারণে ১৫ হোটেলকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

Comments :0

Login to leave a comment