Lok Sabha

ওম বিড়লার অনাস্থায় ‘নরম’ তৃণমূল

জাতীয়

ওম বিড়লা নয়, মুখ্য-নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চায় তৃণমূল। সূত্রের খবর মঙ্গলবার ইন্ডিয়ার সাংসদদের বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের বিরোধী। তাদের দাবি বিরোধী সাংসদের সাসপেশন নিয়ে বিরোধীদের পক্ষ থেকে লোকসভার অধ্যক্ষকে চিঠি দেওয়া হোক। আর এই ঘটনা ফের একবার বুঝিয়ে দিল সংসদের অভ্যন্তরে তৃণমূল বিজেপির গোপন রসায়ন।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত ৫০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিরোধীরা একজোট হলে এই সংখ্যা জোগাড় করা কঠিন হবে না। তবে বর্তমান সংখ্যাতত্ত্বে এই প্রস্তাব পাশ হওয়া কঠিন হলেও, এটি সরকারের ওপর নৈতিক চাপ তৈরির একটি বড় অস্ত্র হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য এর আগে একাধিক ক্ষেত্রে বিরোধীরা যখন সংসদের অভ্যন্তরে বিজেপিকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে তাতে বাধা দিয়েছে তৃণমূল। আবার অনেক বৈঠকে তারা উপস্থিত থাকেনি। অনেক ক্ষেত্রে ওয়াক আউট করে বিজেপিকে সুবিধাও করে দিয়েছে বিভিন্ন বিল পাশ করার ক্ষেত্রে।
তৃণমূলের দাবি এসআইআরকে কেন্দ্র করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার। কিন্তু রাজ্যের বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণে একটা কথাও ছিল না এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করে। কেরালা, তালিমনাড়ুর মতো বিশেষ অধিবেশন ডেকে এসআইআরের বিরোধী করে কোন প্রস্তাবও পাশ করায়নি তৃণমূল।
বিরোধী সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে স্পিকারের দিকে তারা অভিযোগ করছেন এবং অনাস্থা আনার পরিকল্পনা করছে। লোকসভায় রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের অংশবিশেষ পাঠ করতে চেয়েছিলেন। ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যা সংক্রান্ত সেই নথি রাহুল গান্ধী নিজে প্রত্যয়িত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও স্পিকার তাকে তা পড়ার অনুমতি দেননি।
একদিকে রাহুল গান্ধীকে বাধা দেওয়া হলেও, অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় পাঠ করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি চেয়ারম্যান তাকে থামতে বললেও তিনি তা শোনেননি। যার বিরুদ্ধে স্পিকার কোন ব্যবস্থাই নেননি।
গত সপ্তাহে স্পিকার দাবি করেছিলেন যে বিরোধী সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর অপ্রত্যাশিত কিছু করার পরিকল্পনা করছিলেন, যার ফলে সংসদ স্থগিত করতে হয়। এই দাবিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ওপর হাত তোলার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি এখন স্পিকারের আড়ালে লুকোচ্ছেন। তার সাহস নেই সত্যের মুখোমুখি হওয়ার।’
গত মঙ্গলবার সংসদে চরম বিশৃঙ্খলার জেরে হিবি ইডেন, অমরিন্দর রাজা ওয়ারিং সহ মোট আটজন কংগ্রেস সাংসদ এবং একজন সিপিআই(এম) সাংসদকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment