২০২৩ সালে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে আততায়ীর গুলিতে খুন খালিস্তানপন্থী গুরপতওয়ান্ত সিং পুন্নম। ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখ হলেও পুন্নম আমেরিকার নাগরিক। ‘শিখস ফর জাস্টিস’ নামে এক সংগঠনের কর্মকর্তা। যদিও ভারত সরকার পুন্নমকে সন্ত্রাসবাদী বলে থাকে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে মার্কিন তদন্তকারীরা এক বড়সড় ষড়যন্ত্রের জালের সন্ধান পেয়েছে বলে দাবি করে। এমনকি সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ভারত সরকার কোনও না কোনোভাবে জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ তোলে ওয়াশিংটন। ভারত সরকার যথারীতি সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দেয়। এই নিয়ে তখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয়।
প্রায় একই সময়ে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার এক শিখ গুরুদোয়ারার সামনে অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন আর এক খালিস্তানপন্থী শিখ হরদীপ সিং নিজ্জর। কানাডার নাগরিক নিজ্জরও ভারত সরকারের চোখে উগ্রপন্থী। নিজ্জর হত্যার তদন্ত চালিয়ে কানাডার পুলিশ যে সব চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় তার ভিত্তিতে তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন টুডু সরাসরি অভিযোগ করেন এই হত্যার পেছনে ভারতের হাত আছে। এক্ষেত্রেও যথারীতি মোদী সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে। নিজ্জর হত্যার তদন্তে কানাডা আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময় করে। তখন উভয় দেশের তদন্তকারীরাই জানান দু’দেশে দুই খালিস্তানপন্থী শিখ হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সম্পর্ক আছে।
পুন্নম হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্তাকে মার্কিন সরকারের অনুরোধে চেক রিপাবলিকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের সরকার। পরে তাকে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়। তখন থেকেই গুপ্তা মার্কিন জেলে বন্দি। দীর্ঘ তদন্ত-জেরা চলার পর অবশেষে গুপ্তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বীকার করেছেন। অর্থাৎ পুন্নম হত্যার ষড়যন্ত্রের তিনি অন্যতম অংশীদার। মার্কিন বিচারবিভাগ জানিয়েছে বিকাশ যাদব নামে এক ভারত সরকারের কর্মী গুপ্তাকে এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত করেছিল। গুপ্তা আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ।
আমেরিকা ও কানাডার বক্তব্য অনুযায়ী পুন্নম-নিজ্জর হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বা সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনা নয়। বড়সড় ষড়যন্ত্রের অংশ আর তার পেছনে আছে মোদী সরকার। আমেরিকা ও কানাডায় সক্রিয় খালিস্তানপন্থীদের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছিল। যদিও মোদী সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিন্তু এখন গুপ্তা অপরাধ স্বীকার করার পর তার ভাষ্য অনুযায়ী ভারত সরকারের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে চলে আসবে। যদি ভারত সরকারের যোগাযোগ প্রমাণ হয় তাহলে বিশ্বের সামনে ভারতের ভাবমূর্তি ভয়ানকভাবে নষ্ট হবে। ভারত সম্পর্কে উচ্চ ধারণা ফিকে হয়ে যাবে।
editorial
মোদীদের অস্বস্তি আরও বাড়ল
×
Comments :0