CPIM SOUTH 24

শ্রেণি ঐক্য গড়তে হবে বুথে বুথে, বারুইপুরে সেলিম

রাজ্য জেলা

শনিবার বারুইপুরে সাধারণ সভায় বলছেন মহম্মদ সেলিম।

অনিল কুণ্ডু

তৃণমূল, বিজেপিকে পরাস্ত করতে ঐক্যবদ্ধ বামপন্থার পুনরুত্থান ঘটাতে হবে। একেবারে নীচু স্তর থেকে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে শ্রেণী ঐক্য দৃঢ় করতে হবে। শনিবার বারুইপুরে একথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির উদ্যোগে বারুইপুর রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত এক সাধারণ সভায় তিনি বলেন যে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে সিপিআই(এম)কে শক্তিশালী বামপন্থী পরিমন্ডল গড়ে তুলতে হবে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে পার্টি নেতা, কর্মীদের উদ্দেশ্যে সেলিম বলেন, "কঠিন কঠোর বাস্তবের উপর দাঁড়িয়েই রাজনীতি করতে হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা একটা উদাহরণ। নির্বাচনে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাস্ত করার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।" 
এদিনের সাধারণ সভায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক রতন বাগচী। 
এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন, "সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচার, অপপ্রচারের উল্লেখ করে বলেছেন, দক্ষিণপন্থী শক্তি, মিডিয়ার বিরুদ্ধে গত সাড়ে তিন দশক ধরে আমরা লড়াই করছি। কেউ কেউ বললো বিকল্প বাম দরকার। আমরা বললাম বামই বিকল্প। আমরা বৃহত্তর বাম গড়ে তোলার কথা বলছি। বাংলা বাঁচাও যাত্রা, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন, চোর ধরো জেল ভরো, প্রতিরোধ স্পৃহা নিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে সিপিআই(এম)।" 
তাঁর কথায়, রাজ্যের তৃণমূল সরকারের প্রতি মানুষ বিরক্ত। তৃণমূল দল, সরকার, মমতার বিরুদ্ধে মানুষ বীতশ্রদ্ধ। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার খেটে খাওয়া মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। মানুষের রুটিরুজি, চাহিদা নিয়ে কোনও কথা নেই। এতদিনেও চিটফান্ড দুর্নীতির তদন্ত এগোল না। তদন্ত চলছেই। তৃণমূল, বিজেপি বিরোধী সমস্ত মানুষকে এই লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। রাজ্যে ৮০ হাজার বুথে পাড়ায় পাড়ায় সভা করতে হবে। সবার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।সিপিআই(এম), বামফ্রন্টের বাইরেও বাম শক্তিকে সংহত করতে হবে।"

শ্রীদীপ ভট্টাচার্য নয়া উদারনীতি প্রসঙ্গে বলেন, "গরিব আরো গরিব হবে ধনী আরও ধনী হবে। তৃণমূল চরম দক্ষিণ পন্থী জনবিরোধী শক্তি। আরএসএস-বিজেপিও কমিউনিস্ট বিরোধী। বামপন্থীরা যাতে এগোতে না পারে তাই আরএসএস বাংলার বুকে বাইনারী রাজনীতি চালাচ্ছে। তৃণমূলকে হটাতে হবে। তৃণমূলকে হটাতে পশ্চিমবাংলায় আরএসএস-বিজেপিকে রুখতে হবে। রাজ্যের আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যারা রুখতে চায় তাঁদেরকে নিয়েই এবারের লড়াই। ঐতিহাসিক নির্বাচন। তৃণমূল আরএসএস-বিজেপি বিরোধী লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। সংবাদ মাধ্যম মিথ্যা প্রচার করবে। সতর্ক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়েই প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হবে। এই দুই শক্তিকে পরাস্ত করতে হবে।"
সুজন চক্রবর্তী বলেন, "বিভিন্ন দেশে নির্বাচনে বামপন্থীরা এগোচ্ছে। এখানেও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। বাড়ি বাড়ি পৌঁছতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে এভাবে চলতে পারে না।" 
শমীক লাহিড়ী বলেন, "আসন্ন নির্বাচন বাইনারী ভাঙার নির্বাচন। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলেই আরএসএস বেড়েছে। মৌলবাদ সাম্প্রদায়িকতাকে পরাস্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, মগজের লড়াই, রাস্তার লড়াইয়ের সংঙ্গেই মানুষের কাছে বাম বিকল্প তুলে ধরতে হবে।"

 

Comments :0

Login to leave a comment