মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন শেষে শুরু হয়েছে গণনা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা চলার পর ভোটগ্রহণ শেষ শুরু হয়েছে গণনা। নির্বাচন কমিশনের তরফে শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি করা হলেও কয়েকটি হিংসা ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। দুটি জেলায় বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।বাংলাদেশে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেই।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস। ভোটগ্রহণ শেষে উপদেষ্টা বলেন,‘‘ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারত্ব এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমি নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।’’
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,‘‘আন্দোলনের সময়কার সঙ্গীদের পাশাপাশি কম-বেশি আরও রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তারা দেশ চালাতে চান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা যে সকল রাজনৈতিক দলকে একসাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি আমরা চাই কম-বেশি সকলকে নিয়ে একসাথে দেশ পরিচালনা করতে।’’
এদিন সকাল থেকেই সারা দেশে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা যায়। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবারকে নিয়ে আসেন ভোটকেন্দ্রে, কেউ আবার আসেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ৩৬ হাজার ৩১ টি ভোট কেন্দ্রে ভোট দানের হার ৪৭. ৯১ শতাংশ। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য শেষ পর্যন্ত কত ভোট পড়ল তা জানতে আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে অনুমান করা যায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। ইসি সচিব জানান, দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং ভোটগ্রহণ সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু অনিয়ম বা গোলযোগের অভিযোগ পাওয়া গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে কমিশন। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে গেছেন। তাঁরা সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়েছেন। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণদের মধ্যে ভোট নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা থাকলেও সকালের দিকে মধ্যবয়সি মানুষের ভিড় বেশি ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসারের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ করা গেছে। প্রার্থীদের বুথগুলোতে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি থাকলেও বড় কোনো সংঘাত বা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়নি।
Comments :0