Strike CITU AIKS

বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধেও হবে একজোটে লড়াই, জানালো সিআইটিইউ-কৃষকসভা

জাতীয়

দেশের হাজার হাজার জায়গায় শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর এবং সাধারণ মানুষ সমবেত হয়েছেন। শামিল হয়েছেন শ্রম কোড বিরোধী ধর্মঘটে। ঐতিহাসিক ধর্মঘট দেশের শ্রমিক-কৃষক এবং মেহনতি জনতার ঐক্যকেই জোরালো করেছে। আগামী দিনে আরও জোরালো হবে ঐক্যবদ্ধ লড়াই।
ধর্মঘট সফল করার জন্য দেশের মেহনতি সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে একথা বলেছে সিআইটিইউ এবং সারা ভারত কৃষক সভা। 
সিআইটিইউ বলেছে, কেরালা, ওড়িশা, ত্রিপুরা এবং অন্য কয়েকটি রাজ্যে বন্‌ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কোল ইন্ডিয়া এবং তার সাবসিডিয়ারিতে ৮৩ শতাংশ কাজে যোগ দেননি। কয়লাবাহী ট্রেনের চলাচল আটকে গিয়েছে। কেওনঝড় এবং জাজপুরে একেবারে বন্ধ ছিল স্পঞ্জ আয়রন ক্লাস্টার। 
সিআইটিইউ বলেছে, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বহু বাধা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে। কেরালায় ৯৫ শতাংশ প্রভাব পড়েছে। 
তেল এবং শোধনাগারে আসামের ডিগবয় বা বঙ্গাইগাঁওয়ে অস্থায়ী শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। মুম্বাইয়ে বিপিসিএল পরিশোধনাগার থেকে ওএনজিসি’র দপ্তরে বিক্ষোভ হয়েছে। 
কলকাতা বন্দর, কাকিনাড়া বন্দর থেকে পারাদীপ- গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে। পাঞ্জাব এবং ওড়িশায় সড়ক পরিবহণ শ্রমিকরাও শামিল হয়েছে ধর্মঘটে। রেলের ঠিক শ্রমিকরা ধর্মঘটে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। 
সিআইটিইউ জানিয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে ডুয়ার্সের চা-বাগান থেকে হুগলীর চটকল, ইটভাটা ধর্মঘটে সাড়া দিয়েছে। বিপণন কর্মীরা যোগ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারি কর্মীরা যোগ দিয়েছেন ১৬টি রাজ্যে। আশা, অঙ্গনওয়াড়ি, মিড ডে মিলের মতো প্রকল্প কর্মীরা যোগ দিয়েছেন রাজ্যে রাজ্যে। যোগ দিয়েছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। গিগ শ্রমিকরা বিভিন্ন রাজ্যে শামিল হয়েছেন বিক্ষোভ থেকে ধর্মঘটে।
সারা ভারত কৃষকসভা এবং সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়ন বলেছে যে আগামী দিনে আরও জোরালো হবে ঐক্যবদ্ধ লড়াই। যেভাবে আমেরিকার কাছে দেশের কৃষকদের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে দেশের সরকার তার বিরুদ্ধে হবে আরও বড় প্রতিবাদ। 
এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল এবং বিক্ষোভ দেখায় শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র-যুব সংগঠন। ‘‘আমাদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, মেনে নেব না।’’ শ্রীনগরে ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিলে একথা বলেন সিপিআই(এম) নেতা ইউসুফ তারিগামি। 
তিনি বলেন, ‘‘মেহনতিই সমাজের ইঞ্জিন। ইঞ্জিনের সিটিও বাজবে, আগেও যাবে। শ্রমজীবী ইউনিয়ন গড়বে, হকের দাবি করবে, সে দাবি আদায় করবে। বাধা আসবে, বাধা ভেঙেই এগতে হবে। শ্রমিক, কৃষক, ছোট দোকানদার, মেহনতি একজোট হয়ে অধিকার আদায়ের লড়াই চালাবে। রাত যতই গভীর হোক, ভোর আসবেই।’’

Comments :0

Login to leave a comment