Mid Day Meal

‘আমাদের ছেলে মেয়েদের মুখে খাবার তুলে দেবো কী ভাবে’, সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন মিড ডে মিল কর্মীদের

রাজ্য কলকাতা

মিড ডে মিল কর্মীদের মৌলালি মোড় অবরোধ। ছবি : দিলীপ সেন।

‘রোজ ইস্কুলের ছেলে মেয়েদের জন্য রান্না করি, ওদের মুখে খাবার তুলেদি। কিন্তু আমাদের বাড়ির সন্তানদের মুখে খাবার কী ভাবে তুলে দেবো সেই দিকে কোন নজর নেই সরকারের।’ ফেব্রুয়ারির রোদ মাথায় নিয়ে শিয়ালদহ থেকে মৌলালি পৌঁছে তখন রাস্তায় বসে স্লোগান দিচ্ছেন সীমা বিশ্বাস। তারই ফাঁকে তিনি এই কথা বললেন।
সীমা বিশ্বাস নদীয়ার একটি স্কুলের মিড ডে মিল কর্মী। প্রতিদিন তিনি স্কুলে রান্না করেন। একা করেন না, সাথে আরও দুজন থাকেন। মাসের শেষ হাতে যেই টাকা পান সেই টাকা হাজারের অঙ্ক ছোঁয় না। শতকের ঘরেই আটকে থাকে। স্বামী চাষ করেন। ছেলে স্কুলে পড়ে। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার। কোন মতে টেনে টুনে চলে সংসার।
লক্ষীর ভান্ডার পান? উত্তর আসে, ‘পাই। কিন্তু আমি তো একটা কাজ করি। সেই কাজের বেতনটা তো সরকার ঠিক ভাবে দেবে। তবেই তো আমার সংসার চলবে। লক্ষীর ভান্ডার দিয়ে তো আর সংসার চলে না!’
১২ মাসের বদলে ১০ মাসের মজুরি পান মিড ডে মিল কর্মীরা। এর ওপর কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের বাজেটে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মাথাপিছু মাত্র ৫ টাকা ৪৭ পয়সা এবং পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাথাপিছু মাত্র ৮ টাকা ১৪ পয়সা ধার্য রয়েছে মিড ডে মিলের জন্য। অথচ অন্যান্য রাজ্যে এর পরিমাণ অনেকটাই বেশি। 
পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল যৌথ সংগ্রাম কমিটির পক্ষে থেকে সিআইটিইউ নেত্রী মধুমিতা ব্যানার্জি বলেন, এই টাকায় কিভাবে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব তার জবাব দিতে হবে দুই সরকারকেই। এর ওপর রয়েছে যখন তখন ছাঁটাইয়ের কোপ। শাসক দলের কথা মতো কাজ না করলে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে মিড ডে মিল কর্মীদের— এই নজির রয়েছে কলকাতাতেই। তিনি বলেন, দাবি মানা হলে রাজ্য জুড়ে বৃহত্ত্বর আন্দোলন হবে। 
এদিন মিড ডে মিল কর্মীদের মাসিক ভাতা বাড়ানোর দাবি সহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে কলকাতায় মিছিল মিড ডে মিল কর্মীদের। শিয়ালদহ থেকে মিছিলের ডাক দেয় পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন (CITU), পশ্চিমবঙ্গ রন্ধনকর্মী (মিড ডে মিল) ইউনিয়ন (AICCTU), সারা বাংলা মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন (AIUTUC)। 
মিছিল শিয়ালদহ থেকে মৌলালি এলে তা আটকায় পুলিশ। পুলিশের বাধার সামনে পড়ে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মিড ডে মিল কর্মীরা। 
পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক মধুমিতা ব্যানার্জি বলেন, ‘রাজ্য বাজেটে মিড ডে মিল কর্মীদের জন্য কিছু নেই। মাত্র ২০০০ টাকা বেতন পায় তারা। ১০ মাসের টাকা তারা পায়। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন।’ তিনি বলেন, মিড ডে মিল কর্মীদের কোন পরিচিতি পত্র নেই, মাতৃত্বকালিন ছুটি নেই। তাদের পরিচয় পত্র দিতে হবে। মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে হবে। অবসরকালিন কোন সুযোগ সুবিধা নেই। ১২ তারিখ ধর্মঘটে মিড ডে মিল কর্মীরা সামলি হবেন। 
সারা বাংলা মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের নেত্রী মীনতি মিত্র বলেন, ‘রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার মিড ডে মিল কর্মীদের জন্য কোন কিছু করেনি। আশা কর্মীদের ভাতা বেড়েছে। আমাদের দাবি আজকের বাজার মূল্য অনুযায়ী মিড ডে মিল কর্মীদের ভাতা বাড়াতে হবে। মাসে মাত্র ২০০০ টাকা পায় মিড ডে মিল কর্মীরা। কোথাও আবার গ্রুপে কাজ করলে সেই টাকা ভাগ হয়। এই টাকায় সংসার চলে না।’ 
এরাজ্যে এখন মিড ডে মিল প্রকল্পে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার রন্ধনকর্মী পদ থাকলেও প্রতিটি সেন্টারে প্রতি পদের জন্য এক বা একাধিক স্ব-নির্ভর গোষ্ঠী কাজ করার জন্য ৮ লক্ষাধিক রন্ধনকর্মী কাজ করছেন অত্যন্ত স্বল্প মজুরিতে।

Comments :0

Login to leave a comment