MA Baby on West Bengal

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বামপন্থার পুনরুত্থান সম্ভব; বেবি

রাজ্য

রাজ্যে বিভিন্ন অংশের কাছে লড়াই আন্দোলনের মাধ্যমে পৌঁছাচ্ছে সিপিআই(এম)। বামপন্থীদের ডাকে সাড়াও দিচ্ছেন বিভিন্ন অংশের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থার পুনরুত্থান সম্ভব।
শুক্রবার কলকাতায় মুজফ্ফর আহম্‌দ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। এদিন বেবির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক করেন পার্টির রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। 
সেলিম জানান যে বিধানসভা নির্বাচনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখানেও থাকবেন বেবি। ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসন সমঝোতা শেষ করা হবে বামফ্রন্টে। ওইদিন বামফ্রন্টের বৈঠক রয়েছে। সামাজিক সংগঠন, ব্যক্তিবর্গ যাঁরা লড়াইয়ে শামিল হতে চান, চলছে তাঁদের সঙ্গেও আলোচনা। আইএসএফ’র সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে কথা হয়েছে।
বেবি এবং সেলিম জানিয়েছেন বামপন্থী অন্য শক্তিগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়া ইতিবাচক। তার বাইরে যে যে শক্তি রাজ্যে বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে, কথা হচ্ছে তাদের সঙ্গেও। চূড়ান্ত হবে বামফ্রন্টে। 
সেলিম জানান, এই রাজ্যকে বাঁচাতে হলে কী করণীয়, মানুষ কী ভাবছেন, জীবন জীবিকা শিক্ষা স্বাস্থ্য, পরিবেশ, শ্রম সংক্রান্ত সঙ্কটের বিষয়গুলিকে সামনে রেখে প্রচার গড়া হবে। ‘বাংলা বাঁচাও ডট কম‘ নামে একটিট ওয়েবসাইট চালু হয়। সেখানে মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে এখানে, যাতে ইস্তাহার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হয়।
বেবি বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, কেরালা, তামিলনাডু, আসামেও নির্বাচন রয়েছে। সেখানেও রাজ্য কমিটির বৈঠকে থাকব। সংবিধানকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে আমরা মানুষকে এক করবো। রাজনৈতিক ভাবে, আদর্শগত ভাবে বিজেপিকে হারাতে চাই।
সেই সঙ্গে বেবি বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সাম্প্রদায়িকতার সাথে আপস করে। এখানে তৃণমূলকে হারাতে হবে, তার সঙ্গে বিজেপি-র বিস্তার থামাতে হবে। যারা এই লড়াইয়ে শামিল হবেন তাঁদের স্বাগত।


বেবি বলেন, কেরালায় বামপন্থীদের সাথে ইউডিএফ’র লড়াই। ওই রাজ্যের মানুষ মনে করেন সরকার মানুষের হয়ে কাজ করছে। কেরালায় বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকার শ্রম কোড লাগু করতে দেয়নি। চরম দারিদ্র হঠিয়েছে একমাত্র রাজ্য হিসেবে। 
এসআইআর প্রসঙ্গে বেবি বলেন, কেরালা এবং তামিলনাড়ুতে এসআইআর’র বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে বিধানসভায়। পশ্চিমবঙ্গের মহিলা মোস্তারি বানুকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এমন লক্ষ লক্ষ ঘটনা রয়েছে। 
বেবি বলেন, কমিশন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দপ্তরে পরিণত হয়েছে। কমিশন নিরপেক্ষতার বদলে মোদী সরকারের দপ্তরে পরিণত হয়েছে। রেফারি কোনও দলে যোগ দিলে ম্যাচের কী হবে? জ্ঞানেশ কুমার সেভাবেই চলছেন। সারা দেশে এই বিষয়টি নিয়ে আমরা লড়াই চালাচ্ছি। 
তিনি বলেন, এই রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের সময় পঞ্চায়েত, কৃষিতে এগিয়ে ছিল। আমরা আশাবাদী বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বামপন্থীরা ভালো ফলাফল করবে, বামপন্থার পুনরুত্থান সম্ভব। আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলা দেশের বামপন্থী আন্দোলনকে বার বার পথ দেখিয়েছে। গ্রামের প্রান্তিক অংশের মানুষ বামপন্থীদের পাশে আসছেন। নদী রক্ষা করতে, মানুষের দাবি নিয়ে প্রতিদিন লড়াই চলছে রাজ্যে।

Comments :0

Login to leave a comment