নির্বাচন কমিশন আইন মানছে না, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছে না। কেবল আরএসএস’র কথা অনুযায়ী কাজ করছে। এসআইআর’র নামে জনতাকে হেনস্তা করার এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবে সিপিআই(এম)।
শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, এরাজ্যের মানুষকে, দেশের মানুষকে, যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বেছে নিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এদিন মুজফ্ফর আহম্দ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে সেলিমের সঙ্গে ছিলেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিও। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ থাকার কথা। তার বদলে কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তরে পরিণত হয়েছে। রেফারি কোনও দলের হয়ে খেললে সেই ম্যাচের পরিণতি কী হবে?
বেবি বলেন যে কেরালা এবং তামিলনাডু সরকার বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার তা না করানোয় খেদ জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের জেলা শাসকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছে। কাউকে কাউকে ধমকানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, এ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখা গিয়েছে টিভি ক্যামেরর সামনে প্রশাসনিক বৈঠক করতে। আধিকারিকদের ধমক দিতে। এসব ধমক-চমক সম্ভবত নির্বাচন কমিশনকে খেতে হচ্ছে। তারা আবার অন্যকে ডেকে ধমকাচ্ছেন। আমরা চাই আইনের ভিত্তিতে, নিয়মের ভিত্তিতে কমিশন বা প্রশাসন চলুক।
সেলিম বলেছেন, বিজেপি এবং তৃণমূল দু’দলই ভুয়ো অভিযোগ জানিয়েছে ফর্ম ৭ ভরে। ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়ার বদলে বৈধ ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে ভুয়ো অভিযোগ জমা দিয়ে। কমিশন তাকে আটকাচ্ছে না। সেলিম বলেন, বিজেপি আগেই বলে দিয়েছে এতো নাম বাদ দেওয়া হবে, এখন সেই কাজ করার চেষ্টা করছে। শুনানিতে ডেকে গরিব মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। মানুষের কাজের ক্ষতি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বজরঙ দলের মতো কাজ করছে।
সেলিম বলেন, ধর্মঘটের বেলা শ্রমদিবস নষ্টের হিসেব হয়। এখন যে শুনানির জন্য হেনস্তা হচ্ছে সেখানে তো শ্রমদিবস নষ্ট হচ্ছে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বেবি মনে করিয়েছেন যে সিপিআই(এম) পার্টি কংগ্রেসেই আরএসএস নিয়ন্ত্রিত বিজেপি সরকারের নয়া ফ্যসিবাদী অভিমুখ চিহ্নিত করেছিল। একদিকে শ্রমজীবীর ওপর আক্রমণ, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি। আরেকদিকে জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক চালিয়ে বিভাজন উসকানো সেই প্রবণতাকেই স্পষ্ট করছে।
বেবি বলেছেন, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এসআইআর’র মাধ্যমে। সারা দেশে, পশ্চিমবঙ্গে তার বিরুদ্ধে লড়াই চালাবে সিপিআই(এম)।
Comments :0