M A Baby on SIR

জনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ হচ্ছে, বন্ধ করুন এসআইআর, বেবির চিঠি জ্ঞানেশ কুমারকে

জাতীয়

এসআইআর কার্যত জনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধের চেহারা নিয়েছে। গণতন্ত্রের ভিত্তি সর্বজনীন ভোটাধিকার বিপদের মধ্যে পড়েছে। এই প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো চিঠিতে এই দাবি করেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। 
প্রক্রিয়া ঘিরে চরম অস্বচ্ছতা, প্রশাসনিক গোলযোগ, সময়ের অভাবের মতো বিষয়গুলির উল্লেখ করে বহু বৈধ নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন বেবি। বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন প্রক্রিয়ার মাঝপথে পশ্চিমবঙ্গে চালু ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’ বা ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’-র। এই কারণ দেখিয়ে পাঠানো হয়েছে নোটিশ। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে বিতর্কিত পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া। বিপুল অংশ তীব্র আশঙ্কায় ভুগছে। কেউ কেউ আত্মহনন প্রযন্ত করেছেন।
বেবি প্রশ্ন তুলেছেন যে নির্বাচনের ঠিক মুখে থাকা পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং তামিলনাডুতে এসআইআর হচ্ছে কেন। তিনি বলেছেন যে ভোটার তালিকায় নিয়মমাফিক সংশোধনের বদলে এই প্রক্রিয়ায় ঘুরপথে এনআরসি করার ব্যবস্থা হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সূচী পিছিয়ে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে শনিবার শেষ হচ্ছে শুনানি প্রক্রিয়া। ‘আনম্যাপড’ অর্থাৎ ২০০২’র তালিকায় নামের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’-র নামে পাঠানোর নোটিশের শুনানি ঘিরে যুক্তিহীন হেনস্তার ছবি ধরা পড়েছে রাজ্যজুড়ে। 
এদিন আবার রাজ্য সরকারের পাঠানো আধিকারিকদের নামের তালিকা নিয়ে ফের চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। এই তালিকায় সবাই ‘গ্রুপ বি’ আধিকারিক কিনা তোলা হয়েছে সে প্রশ্ন। 
বেবির চিঠিতে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে বলা হয়েছে যে পুরো বিষয়টি বিশৃঙ্খল, অস্বচ্ছ, একতরফা এবং বাদ দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে। নতুন ভোটার তালিকার বৈধতা এবং ভোটাধিকারের মৌলিক অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। 
চিঠিতে তোলা হয়েছে অবাস্তব সময়সীমা, আলোচনার অভাব, ভোটদাতাদের ঘাড়ে দায় চাপানোর মতো বিষয়গুলি। বিপুল সংখ্যায় ৭ নম্বর ফর্ম জমা করার অনুমতি দিয়ে নির্দিষ্ট অংশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও তুলেছেন বেবি। 
পশ্চিমবঙ্গের ভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’ খুঁজে বের করা হয়েছে একটি অস্বচ্ছ সফ্টওয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে। সুপ্রিম কোর্টে যা বলা হয়েছে তার উলটো, সফটওয়ারে নিজে থেকেই নোটিশ বের হচ্ছে। 
বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী আধিকারিকদের দিয়ে আধা বিচারবিভাগীয় দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। অত্যন্ত কম সময়ের কারণে প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ বিপদের পড়েছেন। নিয়মমাফিক ব্যবস্থা এড়িয়ে কমিশন সমান্তরালভাবে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করেছে।  
বেবি মনে করিয়েছেন যে গোড়া থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে সিপিআই(এম)। গণতন্ত্রের জন্যই ভোটার তালিকার নিয়মিত সংশোধন জরুরি। সেটি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এসআইআর কেবল ভোটার তালিকা সংশোধন করতে নামেনি। বেবি বলেছেন, কমিশনের দায়িত্ব না হলেও নাগরিকত্ব ঠিক করার চেষ্টা করছে।

Comments :0

Login to leave a comment