উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই গণ্ডার সহ বন্যপ্রাণীর চোরা শিকার ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ও গোরুমারা জাতীয় উদ্যানকে ঘিরে অতীতে একাধিক চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য সামনে এসেছে। বনদপ্তর ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়েও বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে অবশেষে জলপাইগুড়িতে আয়োজিত হল বনদপ্তর ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।
জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গের পুলিশ মহাপরিদর্শক, জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি, তিন জেলার পুলিশ সুপার এবং বনদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। প্রশ্ন উঠছে, এতদিন পরে কেন এই তৎপরতা? দীর্ঘ সময় ধরে বনাঞ্চলে চোরাশিকার চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর সমন্বয় কেন আগে গড়ে ওঠেনি সেই জবাব স্পষ্ট নয়।
বৈঠকে জানানো হয়েছে, গত চার বছরে উত্তরবঙ্গে কোনও গণ্ডার শিকারের ঘটনা ঘটেনি। তবে অতীতে গণ্ডার শিকার ও বন্যপ্রাণী পাচারের একাধিক ঘটনা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। জলদাপাড়ার ডিএফও পারভীন কাসওয়ান জানান, গত পাঁচ বছরে প্রায় ১৩০ জন বন্যপ্রাণী ও কাঠ চোরাচালানকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৭২ শতাংশ মামলায় সাজা নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন যদি আগেই কঠোর নজরদারি ও সমন্বয় থাকত, তবে এত বিপুল সংখ্যক গ্রেপ্তার ও অপরাধের ঘটনা সামনে আসত না।
বৈঠকে ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান, যৌথ টহল এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের কথা বলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, এই পদক্ষেপগুলি কী কেবল আশ্বাস হয়ে থাকবে, নাকি বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটবে?
উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল বহুদিন ধরেই চোরা শিকারিদের নিশানায়। তাই শুধু বৈঠক নয়, মাটিতে নেমে কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপই পারে গণ্ডারসহ বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। এখন দেখার, এই সমন্বয় সভা বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করে, নাকি তা নিছক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে।
wildlife poaching and smuggling
উত্তরবঙ্গে বন্যপ্রাণীর চোরা শিকার ও পাচার রুখতে বৈঠক বনদপ্তর ও পুলিশের
×
Comments :0