মলয়কান্তি মণ্ডল: রানিগঞ্জ
বিজেপি চাইছে কৃষি অলাভজনক হোক কৃষকের কাছে। তাহলে কৃষি ব্যবস্থা কর্পোরেটের হাতে সহজেই সঁপে দেওয়া যাবে। সরকারের এই কৃষি নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে না পারলে কৃষি ও কৃষক কেউ পরিত্রাণ পাবে না।
রবিবার রানিগঞ্জ শহিদ স্মৃতি ভবনে সারা ভারত কৃষক সভার ৩৮ তম প্রাদেশিক কৃষক সভার রাজ্য সম্মেলনের রিপোর্টিং সভায় একথা বলেন সারা ভারত কৃষক সভার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সৈয়দ হোসেন।
তিনি বলেন, তৃণমূল ও বিজেপির লড়াই দৃশ্যত লড়াই মনে হলেও কার্যত তা ছদ্মলড়াই। তৃণমূল ও বিজেপি গরিব প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এই দুই সরকারের নীতির কারণে কৃষক ও কৃষি আক্রান্ত। দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে কর্পোরেট গ্রাস করছে।
এই কৃষকনেতা বলেন, রাজ্যের তৃণমূল সরকারের প্রশাসন ও নেতাদের জুলুমবাজিতে প্রান্তিক কৃষকদের জমি লুট হয়ে যাচ্ছে। ওরা গ্রামের ৮২০০ স্কুল বন্ধ করে দিচ্ছে। চরম দুর্নীতিগ্রস্ত লুম্পেনদের তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মদত ছাড়া টিঁকে থাকতে পারে না। আগামী নির্বাচনে এই দুই দলকে উৎখাত করতে হবে।
সংগঠনের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন জেলা সম্পাদক প্রিয়ব্রত সরকার। সভাপতিত্ব করেন বীরজাকান্ত রায়।
হোসেন বলেন, বিজেপি‘র মতো এমন কর্পোরেট বান্ধব, দুর্নীতিগ্রস্ত, সংবিধান বিরোধী সরকার এর আগে ভারতে ছিল না। দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করছে। বিজেপি শাসনকালে লক্ষাধিক কৃষক আত্মহত্যা করেছে এখন বিজেপি কৃষক আত্মহত্যার তথ্য প্রকাশ করছে না।
কৃষক আন্দোলনের অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে বলেন, বাংলার কৃষক আন্দোলন জমির অধিকারের আন্দোলনে দৃপ্তি ছড়িয়েছিল গোটা দেশে। হিন্দু মুসলমানের মিলিত শ্রেণি আন্দোলন দিশা দেখিয়েছিল। লালঝাণ্ডা নিয়ে জমির অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছিল। ২০১১ সালের পর কৃষকদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। গরিব কৃষকের জমি লুট হচ্ছে। কৃষক ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্য পাচ্ছে না। সারের উপর বাড়তি কর চাপানো হচ্ছে। কৃষিতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কৃষকের যন্ত্রণা বাড়ছে। কৃষকদের স্বার্থে লড়াই করছে একমাত্র লালঝাণ্ডাই।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন জোরদার করে লালঝাণ্ডার শক্তি বাড়াতে হবে।
Comments :0