SIR Bengal

এসআইআর বিরোধী টানা লড়াইয়ে সিপিআই(এম), বৈধ নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্য

এসআইআর পর্বে পশ্চিমবঙ্গে সহায়তা কেন্দ্র পরিচালনা করেছে সিপিআই(এম)। বিভ্রান্ত বহু মানুষকে কেবল ফর্ম ভরার সহায়তা নয়, কোন কোন নথি তৈরি রাখতে হবে সেই পরামর্শও দিয়েছে। ভীত বহু অংশকে ভরসা জুগিয়েছে সহায়তা শিবির। বিভিন্ন জায়গায় এই ক্যাম্পের ওপর হামলাও করেছে তৃণমূল। কিন্তু সেই হামলাকে উপেক্ষা করেই চলেছে ক্যাম্প।
শুনানি পর্বে বিভিন্ন শুনানি কেন্দ্র শাসক দল সমস্যা তৈরি করলেও মানুষের পাশে তারা থাকেনি। আতঙ্কগ্রস্থ মানুষের পাশে থেকেছে সিপিআই(এম)। 
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার চালু হওয়ার দিন ফর্ম ফিলাপ কী ভাবে করতে হবে তা ভিডিও’র মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বহু মানুষের কাছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন যে সব বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় তুলছে না কমিশন। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল তিনটের পর বন্ধ হয়ে যায় লগ-ইন। তিনি বলেছেন, যে এইআরও-দের সাপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন তাঁদের কারও চাকরি যাবে না। ভোটের বাইরে অন্য কাজে তাঁদের ব্যবহার করবে রাজ্য সরকার।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল প্রধান বলেছিলেন যে এ রাজ্যে এ রাজ্যে তিনি এই কাজ করতে দেবেন না। বলেছিলেন যে তাঁর মৃতদেহের ওপর দিয়ে এইআইআর করতে হবে। বাস্তবে এমন কিছুই হয়নি। উলটে হেনস্তার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সুপ্রিম কোর্টে ৯ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে রাজ্য সরকার মাইক্রো অবজার্ভারের জন্য গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নাম পাঠাতে রাজি হয়। কমিশনের বক্তব্য, রাজ্য নাম না পাঠানোয় বাইরে থেকে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা পরীক্ষায় মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী ওই দিনই, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। 
বাইরে থেকে মাইক্রো অবজার্ভাররা আসায় পদবি বা নামে ত্রুটি এবং স্বাভাবিক বদল ধরা হয়নি। তার জন্যও ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়াতে হয়েছে শুনানির লাইনে। 
গত ২৯ অক্টোবর এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার আগে সিইও দপ্তরে সর্বদলীয় বৈঠকে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিপিআই(এম) এর প্রতিনিধিরা। অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিয়ে কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। আবার ভোটার তালিকায় গরমিল রেখে রাজনৈতিক ফয়দা তোলার মতলবও গ্রহণযোগ্য নয়। সিইও দপ্তরে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমে একথা বলেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ।     
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে শুনানির সময়সীমা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি করা হয়। তার ভিত্তিতে কমিশন জানায় ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
মুর্শিদাবাদে পরিযায়ী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা কামাল হোসেনের স্ত্রী মোস্তারি বানু পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর’র বিরোধিতা করে প্রথম মামলা দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। তার ভিত্তিতে অন্যান্য আবেদনের শুনানি একসঙ্গে হচ্ছে। 
এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে আবাস যোজনা গ্রামীণ বা ইন্দিরা আবাস যোজনায় বাড়ির অনুমোদনপত্র নথি হিসেবে গ্রাহ্য হবে না। এই নথি গ্রাহ্য হওয়ার কথা যদিও আগেও বলেনি কমিশন। বলা হয়েছিল বাড়ি তৈরির সরকারি শংসাপত্র গ্রাহ্য করা হবে। 
আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানিতে আপলোড হওয়া নথি যাচাই করে নিষ্পত্তি করতে হবে সিইও দপ্তরকে। 
সেই সঙ্গে খসড়া তালিকায় প্রকাশিত নামে আপত্তি জানানোর ৭ নম্বর ফর্মে জানানো অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ নির্বাচন কমিশন পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সিইও দপ্তরে।
সিপিআই(এম) ৭ নম্বর ফর্ম জমার সঙ্গে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন যে বিজেপি এবং তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ দায়ের করছে ৭ নম্বর ফর্মে। সর্বজনীন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে ফর্ম ৭-কে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
এর মধ্যে কমিশন পশ্চিমবঙ্গে ৭ এইআরও-কে সাসপেন্ড করেছে কমিশন। ‘দায়িত্বে অবহেলা‘ এবং ‘গুরুতর বেনিয়ম’ কারণ দেখিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যে রয়েছে সমশেরগঞ্জ, ফরাক্কা, ময়নাগুড়ি, সুতি, ক্যানিং পূর্ব এবং ডেবরা বিধানসভা। 
কমিশনের সূত্র জানাচ্ছে যে চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশের জন্য নাম এই এইআরও-রা অনুমোদন করেছেন প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই। ম্যাপিং এবং বৈধ ভোটদাতা হিসেবে প্রমাণ না নিয়েই নাম পাঠিয়েছেন এই সরকারি আধিকারিকরা। 
এদিকে নবান্নের সূত্রের উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমে একাংশ বলছে যে এইআরও এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এফআইআর দায়ের করেছে রাজ্য সরকার।
সিপিআই(এম) এসআইআর পর্বে হেনস্তার জন্য নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের আধিকারিকদের দায়ী করেছে। সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি সরাসরি বলেছেন যে নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার বদলে কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তরে পরিণত হয়েছে। 
শুনানিতে হেনস্তার জন্য সিপিআই(এম) দায়ী করেছে রাজ্যের সরকারকেও। 
রাজ্য সরকারের আধিকারিকরাই ইআরও এবং এইআরও হিসেবে কাজ করছেন। ইআরও দপ্তর ঘিরে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে বারবার। শুনানি পর্বে প্রবল হেনস্তার শিকার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দেড় কোটি মানুষ।  
গত ১৪ জানুয়ারি সেলিম জানান যে লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি নিয়ে চিঠি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। ম্যাপিংয়ের সময় মালদহ বা মুর্শিদাবাদে খুব কম অনুপাতে ‘আনম্যাপড’ পাওয়া গিয়েছিল। খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর সেই এলাকাগুলিতে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে গুচ্ছ গুচ্ছ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। গোটাটাই যুক্তিহীন।

Comments :0

Login to leave a comment