দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
ভূটান সীমান্ত সংলগ্ন টোটোপাড়া দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হলেও এখানকার পর্যটন কার্যত সীমাবদ্ধ ছিল হাউরি নদী ও টোটোপাড়া বাজার চত্বর পর্যন্ত। ফলে টোটোপাড়ার আসল সৌন্দর্য, পাহাড়ি অরণ্যপথ ও জনজাতির জীবনের অন্তর্লীন বৈশিষ্ট্য পর্যটকদের অজানাই থেকে গিয়েছিল। এবার সেই সীমাবদ্ধতা ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভরত টোটোর নেতৃত্বে সম্প্রতি একটি নতুন ট্রেকিং রুট চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থেই ‘আসল টোটোপাড়া’-কে তুলে ধরবে পর্যটকদের সামনে। খাড়া উৎরাই পাহাড়ি পথ পেরিয়ে, কখনও বসে বিশ্রাম নিয়ে, কখনও মাটিতে শুয়ে ক্লান্তি সামলে প্রায় দু’ঘণ্টার অভিযানের শেষে পৌঁছনো যায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। সেখানে পৌঁছেই পথের সমস্ত ক্লান্তি নিমেষে মিলিয়ে যায়। চোখের সামনে মেলে ধরে ডুয়ার্সের অমলিন প্রাকৃতিক রূপ। উদ্যোক্তাদের কথায়, এই রুট চালু হলে টোটোপাড়ার পর্যটনে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে। বিস্তারিত পরিকল্পনা ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।
এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে সংস্থার সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, এতদিন টোটোপাড়ায় পর্যটক এলেও স্থানীয় মানুষ সেভাবে উপকৃত হননি। পর্যটন ছিল অসংগঠিত ও সীমাবদ্ধ। এবার পরিকল্পিতভাবে নেচার ট্রেল, ট্রেকিং রুট এবং স্থানীয় গাইড ব্যবস্থার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল পর্যটনের সূচনা হতে চলেছে। তাঁর মতে, টোটো যুবক-যুবতীরা গাইড হিসেবে যুক্ত হলে একদিকে যেমন তাঁদের আয় বাড়বে, অন্যদিকে পর্যটকরাও প্রকৃত টোটো সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবেন।
ভারতের অন্যতম ক্ষুদ্র জনজাতি টোটোরা মূলত আলিপুরদুয়ার জেলার এই সীমান্তবর্তী এলাকাতেই বসবাস করেন। সীমিত জনসংখ্যা ও আর্থসামাজিক সমস্যার মধ্যে তাঁদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি আজ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটনের সঠিক বিকাশ ঘটলে তা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ডুয়ার্সের অরণ্যঘেরা পাহাড়ি প্রান্তরে তাই নতুন আশার সঞ্চার— হাউরি নদীর গণ্ডি পেরিয়ে টোটোপাড়ার অজানা সৌন্দর্যকে সামনে এনে স্থানীয় মানুষের হাত ধরেই গড়ে উঠতে পারে এক সুশৃঙ্খল, সহনশীল পর্যটন মডেল।
Comments :0