Kranti

মেলেনি স্থায়ী ভবন, ক্রান্তিতে স্রেফ ‘বোর্ড’ সর্বস্ব ব্লক, ভোগান্তিতে মানুষ

জেলা

ঘোষণার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও স্থায়ী ভবন পায়নি ক্রান্তি ব্লক। জঙ্গল লাগোয়া কৃষিপ্রধান এই জনপদকে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বতন মাল ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত—লাটাগুড়ি, রাজাডাঙ্গা, চ্যাংমারী, ক্রান্তি, মৌলানী ও চাঁপাডাঙা—নিয়ে পৃথক ব্লক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে না ওঠায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি আজ চরমে।
ব্লক ঘোষণার সময় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমানে ব্লক অফিস বলতে উত্তর সারিপাকুড়িতে একটি অস্থায়ী ভবনেই জোড়াতালি দিয়ে কাজ চলছে। স্থায়ী বিডিও অফিসের জন্য লাটাগুড়ির ক্রান্তি মোড় ও সাত হাত কালীবাড়ির সামনে জায়গা চিহ্নিত করা হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ফলে বিএলআরও, শ্রম দপ্তর ও কৃষি দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কার্যত অচল।
জমির রেকর্ড সংশোধন, পর্চা সংগ্রহ, জাতিগত শংসাপত্র কিংবা কৃষি সংক্রান্ত নথি—প্রতিটি কাজের জন্য আজও মানুষকে মালবাজারে ছুটতে হয়। কয়েক কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সেখানে যাতায়াত মানে সারাদিনের ধকল ও অতিরিক্ত খরচ। দিনমজুর, প্রান্তিক কৃষক ও আদিবাসী জনজাতির মানুষদের কাছে একদিনের রোজগার বন্ধ থাকা মানেই সংসারে টান পড়া।
লাটাগুড়ির বাসিন্দা মনা বিশ্বাসের ক্ষোভ, ‘‘সব কাজের জন্য যদি মালবাজারে যেতে হয়, তাহলে ক্রান্তিকে ব্লক ঘোষণা করা হলো কেন? শুধু বোর্ড ঝুলিয়ে মানুষের সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে।’’ একই সুর চ্যাংমারীর বাসিন্দা হাবিবুল ইসলামের গলায়,‘‘উন্নয়ন শুধু নেতাদের ভাষণেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে কিছুই হয়নি।’’
স্বাস্থ্য পরিষেবার অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। সামান্য জটিল রোগীর ক্ষেত্রেও মালবাজারে রেফার করা হচ্ছে। কৃষি দপ্তরের অফিস কাগজে-কলমে থাকলেও অধিকাংশ সময় আধিকারিকদের দেখা মেলে না বলে অভিযোগ। ফলে সরকারি প্রকল্প ও ভর্তুকির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বহু কৃষক।
এই পরিস্থিতিকে ‘প্রশাসনিক প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে সরব হয়েছে সিপিআই(এম)। ক্রান্তি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জগন্নাথ অধিকারী বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার প্রচারের আলো কাড়তে তড়িঘড়ি ক্রান্তিকে ব্লক ঘোষণা করেছিল। কিন্তু পাঁচ বছর পরেও স্থায়ী বিডিও অফিস, পূর্ণাঙ্গ কৃষি দপ্তর এবং বিএলআরও অফিস কিছুই হয়নি। মানুষ শুধু সাইনবোর্ড নিয়ে কী করবে? সরকারি কর্মীদেরও বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। অবিলম্বে স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও সমস্ত দপ্তরের পরিষেবা ক্রান্তি থেকেই চালু করতে হবে।’’

প্রশাসনের তরফে অবশ্য আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও স্থায়ী ভবন নির্মাণের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। জেলা শাসকের দপ্তরেও এ বিষয়ে সদুত্তর নেই বলে অভিযোগ। ঘোষণার পাঁচ বছর পরও যখন ব্লকের বাস্তব চিত্র ‘বোর্ড সর্বস্ব’, তখন প্রশ্ন উঠছে এ কি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, নাকি নিছক রাজনৈতিক প্রচার? সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিনদিন তীব্রতর হচ্ছে। এখন দেখার, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, নাকি আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হন ক্রান্তির সাধারণ মানুষ।

Comments :0

Login to leave a comment