Post Editorial

দাঙ্গা, লড়াই এবং নুরুল ইসলাম

উত্তর সম্পাদকীয়​

চন্দন দাস

’৬৪-তে দাঙ্গা। ’৬৬-তে দুর্বার খাদ্য আন্দোলন। মাঝের সময়টিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থার উত্থানপর্বের উপাদান। ’৬৭-তে প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার এবং তার পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমাজ বিকাশের গতিপথে সেই দ্রোহকালের বিশেষ তাৎপর্য আছে।
শহীদ নুরুল ইসলাম, শহীদ আনন্দ হাইতকে স্মরণের কারণ রয়েছে সেই ইতিহাসের বিশ্ববিদ্যালয়ে। 
’৬৬-র ১৭ ফেব্রুয়ারি বসিরহাটে শহীদ হন বারো বছরের নুরুল ইসলাম। কৃষ্ণনগরে সতেরো বছরের আনন্দ হাইত শহীদ হন ৫মার্চ। দু’জনেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। দু’জনেই ছিলেন আন্দোলনে। আন্দোলন তখন ছিল মূলত খাদ্য এবং কেরোসিনের দাবিতে। তবে সেই দাবিগুলিতে জ্বলে ওঠা গণআন্দোলনে যুক্ত হয়ে গেছিল জিনিসের দাম কমানো, কাজ, বন্ধ কারখানা খোলা, ফসলের দামের মতো দাবিও। সামগ্রিকভাবে যা তৎকালীন রাজ্য সরকারের ব্যর্থতাকে তুলে ধরছিল এবং সরকার পরিবর্তনের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিষ্ঠিত করছিল। 
১৯৬৪-তে মতাদর্শগত কারণে সিপিআই(এম)’র প্রতিষ্ঠা। ‘কবিতা থেকে মিছিলে’ সেই সময়কালে বামপন্থী আন্দোলনের সমর্থকদের উদ্বেগ তুলে ধরতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উপস্থিত করেছেন অশোক মিত্র। তিনি লিখেছেন,‘‘১৯৬৪ সালের যে সপ্তাহে কমিউনিস্ট পার্টি প্রকাশ্যে দু’ভাগ হয়, সেই সপ্তাহেই বাবা মারা যান। ঘনবদ্ধ তম্রিসার সময় গেছে সেটা, আন্দোলন ছত্রভঙ্গ, পরিপার্শ্ব নির্জীব। ভদ্রলোক মৃত্যুর অব্যবহিত আগে মনে পড়ে দুঃখ করে বলেছিলেন,‘যা ব্যাপার স্যাপার ঘটে গেল, গোটা, পঁচিশ বছরের মধ্যেও আর দেশে কমিউনিজম আসবে না।’ 
কখনও সময় আসে বামপন্থী আন্দোলনের পরিসরে থাকা মানুষের সামনে জীবন এমন ধূসর ভবিষ্যৎ হাজির করে। কিন্তু অশোক মিত্রর অভিজ্ঞতাই বলি? সেই কবিতা থেকে মিছিলেই তিনি লিখলেন,‘মাত্র পাঁচ বছরেই ভেল্কিবাজি হয়েছে।’
অর্থাৎ ১৯৬৪’র হতাশা ১৯৬৯-এ ‘ভেল্কিবাজি’ হয়ে উঠেছে। আসলে তো ভেল্কিবাজি নয়। সেই পাঁচ বছরের মধ্যেই মাথা তুলতে উদ্যত সাম্প্রদায়িকতাকে মোকাবিলা করে, মানুষের দাবি, সঙ্কটের ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে লাগাতার আন্দোলনে নিজেদের প্রমাণ করেছেন কমিউনিস্টরা। ’৪৬-এর অসমাপ্ত বিপ্লবের যন্ত্রণা থেকে বামপন্থার উত্থান ঘটছে পশ্চিমবঙ্গে। সেই সময়েও নানা কুৎসার মুখোমুখি হতে হয়েছে কমিউনিস্টদের। এমনকি চীন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষের সময় ‘চীনের দালাল’ তকমাও জুটেছে। কিন্তু জনতার মুখরিত সখ্যে মাথা উঁচু করে লড়ে গেছেন কমিউনিস্টরা। 
পার্টির ব্যাখ্যা কী ছিল? ১৯৬৮’র ৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর সিপিআই(এম)’র একাদশ রাজ্য সম্মেলন হয় দমদমে। সেই সম্মেলনের রিপোর্টে ’৬৬-র খাদ্য আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিত বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তার একটি অংশে ছিল,‘‘পাক-ভারত যুদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করল। শাসকশ্রেণি উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচার চালালো। আমাদের আরও অনেক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো। দু’-একটি ক্ষুদ্র পার্টি বাদে সমস্ত রাজনৈতিক দল উগ্র জাতীয়তাবাদের স্রোতে গা ভাসালো।...কিন্তু আমাদের পার্টি পশ্চিমবঙ্গে কোনোরকমে বিভ্রান্ত না হয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে এই স্রোতের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আমাদের পার্টি সঠিকভাবেই বুঝেছে ও প্রচার করেছে যে, এই যুদ্ধ ভারত ও পাকিস্তান উভয় মাধ্যমে মীমাংসার আওয়াজ তুলেছি।...বন্দিমুক্তি, গণতান্ত্রিক অধিকার, ভারতরক্ষা আইন প্রত্যাহার প্রভৃতি রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে খাদ্য ও অন্যান্য গণদাবিকে যুক্ত করা হয়। সর্বত্র ব্যাপক প্রচার ও বহু জমায়েত করা হয়। এই অভিযানের পরিণতি ঘটে ১৯৬৬ সালের ৩০ জানুয়ারি কলকাতা ময়দানে ৫ লক্ষ নরনারীর বিশাল সমাবেশে।... এইভাবেই পরবর্তী গণপ্রতিরোধ আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়। ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি-এপ্রিলের গৌরবময় সংগ্রামকে এই পটভূমিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যায় না। এই সংগ্রাম ধাপে ধাপে উচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।’’
অর্থাৎ পার্টিকে একদিকে উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে হয়েছে। অন্যদিকে মানুষের প্রতিদিনের সঙ্কটের দাবিগুলির ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হয়েছে। পাশাপাশি বন্দিমুক্তি, ভারতরক্ষা আইনের প্রত্যাহারের মতো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দাবিগুলিকেও গণআন্দোলনে যুক্ত করতে হয়েছে। সেই সময়েই আরও এক মারাত্মক বিপদের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছে পার্টিকর্মীদের। কোনও সন্দেহ নেই শুধু মানুষের মধ্যেই প্রচার আন্দোলন চালিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়নি। পার্টির মধ্যেও মতাদর্শগত শিক্ষা চালিয়ে যেতে হয়েছে। কারণ, জাতীয়তাবাদের উগ্রতা, দেশভাগের আগে থেকে সাম্প্রদায়িকতার রেশ এবং দ্রুত ফলাফল পাওয়ার মতো প্রবণতা আমাদের মজ্জাগত। কিছু কারণ ঐতিহাসিক। কিছু শ্রেণিগত। 
১৯৬৪’র গোড়াতেই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখা গেলো। প্রথমে মালদহে, তারপর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজশাহীতে। আশ্চর্য হওয়ার কোনও কারণই নেই যে, বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের ঘটনাবলী, বিশেষত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বরাবর দুই দিকের বাংলার সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শক্তিগুলির সহায়ক হয়েছে। তারা ওই ঘটনাগুলিকে নিজেদের ধান্দায় ব্যবহার করতে চেয়েছে। ’৬৪-র ১৬মার্চ ছিল সোমবার। রাত সাড়ে ৯টায় মোহিনী মিলস’র মুসলমান শ্রমিকদের উপর হামলা চালায় সাম্প্রদায়িক শক্তি। শ্রমিকরা তখন রাতের শিফ্‌টে কাজ করার জন্য কারখানায় যাচ্ছিলেন। সরকারি হিসাবেই ১৯জন নিহত হন। পরের দিন ‘পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে’ পশ্চিমবঙ্গে হরতালের ডাক দেয় জনসঙ্ঘ, হিন্দু মহাসভা, পিএসসি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক। মোহিনী মিলস’র হতাহত শ্রমিকরা ‘লাল ঝান্ডা ইউনিয়নের’ সদস্য ছিলেন। ইঙ্গিত স্পষ্ট—দাঙ্গা লাগানো একটি রাজনীতি। সেই রাজনীতির অবশ্যম্ভাবী কৌশল ‘লাল ঝান্ডা’কে দুর্বল করা। আসলে শাসকের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠতে থাকা সংহতিকে ভাঙাই সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রধান কাজ। সেদিনও তাই ছিল। আজও তাই আছে। ১৯৬৪’র ২১মার্চ গণশক্তির পাতায় প্রকাশিত হলো সিপিআই(এম)’র আ্হ্বান—‘শ্রেণীসংগ্রাম এবং গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিরোধের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমানদের সম্মিলিত আন্দোলনের আঘাতে সাম্প্রদায়িকতাকে ধ্বংস করুন।’(বানান অপরিবর্তিত রাখা হলো)
অসীম রায় লিখেছিলেন,‘যখন কোনও স্বপ্ন নেই ঠিক তখনই স্বপ্ন দেখার সময়।’ পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় দাঙ্গা যখন বেলঘরিয়া থেকে জামশেদপুর, রায়গড়, রৌরকেল্লা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা, ধর্মীয় পরিচয়ে তাঁরা মুসলমান। ভাবখানা কিছুটা এমন— মুসলমান মানেই পূর্ব পাকিস্তানী। ‘জোয়ার ভাটায় ষাট সত্তর’-এ অমলেন্দু সেনগুপ্ত ’৬৪-র মার্চের শেষদিকের সাতদিনের বর্ণনা হিসাবে লিখছেন,‘‘দুই শতাধিক শ্রমিককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রাণহানির চেয়ে লুটতরাজ আর গৃহদাহর ঘটনাই বেশি। কলকাতার বুকে এটাই ছিল এবারের দাঙ্গার বৈশিষ্ট্য। গৃহহারাদের সংখ্যা পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই গরিব ‘দিন আনি দিন খাই’ মানুষ।’’
আর সেই সময়েই লড়ছেন জয়া ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শ্রমিকরা। ৯৬দিন ধরে ৭ হাজার শ্রমিক ধর্মঘট চালাচ্ছেন। ১৮মার্চ সারা পশ্চিমবঙ্গ লড়াকু শ্রমিকদের পক্ষে ব্যাজ ধারণ করল। রাজ্যের নানা শিল্পের শ্রমিক, কর্মচারীদের আন্দোলন জোরদার হচ্ছিল সেই সময়েই। জয়ার সেই আন্দোলন জয়লাভ করেছিল। ’৬৪’র ২৭ মে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি, ২৯ মে ধর্মঘটী ৭ হাজার শ্রমিক সেই চুক্তি নিজেদের সভায় অনুমোদিত করে কাজে যোগ দেন। 
আন্দোলন তখন ছড়াতে শুরু করেছে। খাদ্যের দাবিতে, রেশনিংয়ের দাবিতে, কাজের দাবিতে, বন্ধ কারখানা খোলার দাবিতে, ফসলের দামের দাবিতে লড়াই ছড়িয়ে পড়ছিল। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, লড়াই তখন দেশজোড়া। পরিস্থিতিকে বোঝানোর জন্য ফের অশোক মিত্র’র কথাকেই মাধ্যম করা যাক। মিনার্ভা থিয়েটারে উৎপল দত্তের পরিচালনায় ‘কল্লোল’ দেখে আসার পর অশোক মিত্র লিখলেন,‘‘সেই আগুন খাইবার জাহাজ আর শার্দূল সিং যার প্রতীক, নাটকের মঞ্চ থেকে নেমে এসে আমাদের প্রাত্যহিকতাকে দাউ দাউ করে জ্বালিয়েছিল।’ রবীন্দ্রনাথকে আম জনতার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখা নাট্যকারের সেই সৃষ্টির স্ফূলিঙ্গই যেন মধ্যবিত্তর অঙ্গন ছেড়ে বসিরহাট-বাদুড়িয়া-হাসনাবাদ-কৃষ্ণনগর-কোন্নগর-বেহালা-সোনারপুরের মতো বিস্তীর্ণ এলাকায় ভুখা মিছিলে লেলিহান শিখা হয়ে উঠলো। 
গণআন্দোলনের সেই ধারারই এক পর্যায়ে ১৯৬৬’র ফেব্রুয়ারি-মার্চ-এপ্রিল হয়ে উঠলো উত্তুঙ্গ মুহূর্ত। খাদ্য এবং কেরোসিনের দাবিতে আন্দোলনের সময় বসিরহাটে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নুরুল ইসলাম, কৃষ্ণনগরে আনন্দ হাইত।
সেই তিন মাস পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল ছিল গণআন্দোলনে। রাজ্যের কংগ্রেস সরকার, মারমুখী পুলিশ, সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী শক্তিগুলি সেই আন্দোলনকে কোনোভাবেই ভাঙতে পারেনি। সেই পরিস্থিতির জঠরেই যুক্তফ্রন্টের ভিত্তি গড়ে উঠছিল। লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা মানুষের রাজনৈতিক চেতনাকে সমৃদ্ধ, শাণিত করছিল। যা পরবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসকে পরাজিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। অন্যদিকে এই ঘটনা প্রবাহ পরবর্তীকালে ভারতরক্ষা আইন প্রত্যাহার করতে সরকারের উপর প্রবল চাপ তৈরি করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের এই সংগ্রাম দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর লক্ষণীয় প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল। ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের নির্মাণ চলছিল রাস্তায়, ময়দানে।
১৯৬৮’তে পার্টির রাজ্য সম্মেলনে ১৯৬৪’র নভেম্বর থেকে ’৬৬’র সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণআন্দোলনের পর্যালোচনা করেছিল। রিপোর্টে ৮টি পয়েন্ট উল্লেখিত হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল—  ...‘ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গড়ে তোলার উপর যথোচিত গুরুত্ব দেবার সঙ্গে সঙ্গে পার্টি সঠিকভাবে তার স্বতন্ত্র ভূমিকা ও জনগণকে স্বতন্ত্রভাবে জমায়েত করার দায়িত্ব পালন করেছে। আন্দোলনের গতিবেগকে হ্রাস করার সমস্ত প্রচেষ্টার পার্টি বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে এই সংগ্রামকে ‘ক্ষমতা দখলের সংগ্রাম’ মনে করার শিশুসুলভ ধারণাকে কোনও প্রশ্রয় না দিয়ে ধাপে ধাপে আন্দোলনকে অগ্রসর করার দায়িত্ব পার্টি পালন করেছে।’ আরও লেখা হয়েছিল,‘এই গণসংগ্রামে স্বতঃস্ফূর্ততার উপাদান যথেষ্ট ছিল। তা ভুললে চলবে না। কিন্তু পার্টির রাজনৈতিক ক্যাম্পেন একে নির্দিষ্ট গতি ও গতিবেগ দিয়েছে। এই রাজনৈতিক পটভূমিকা না থাকলে গণবিক্ষোভ এত তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারত না।’ ’৬৬-র শিক্ষা—  স্বতঃস্ফূর্ততাকে রাজনীতির নদীপথে বাঁধলে তা গতিময় হয় এবং একইসঙ্গে উর্বর অববাহিকার জন্ম দেয়।
কিন্তু পরিস্থিতির বিবেচনায় ভুল হলে ভুল পথে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার লড়াইয়ের মুহূর্ত থেকে উপাদান সংগ্রহের চেষ্টা না করলে হতাশ হয়ে পড়ারও বিপদ থাকে। শহীদের পরিবারও ভুল করতে পারেন। কিন্তু বামপন্থী আন্দোলনে যুক্ত কর্মীদের সম্পদ পরিস্থিতির সঠিক বিচার, ধৈর্য, শৃঙ্খলা, সাহস এবং গতি। বামপন্থার অগ্রগতি কিংবা পুনরুত্থানের এই সবই আবশ্যিক শর্ত। সেদিনের আন্দোলনকারী এক কিশোর এবং এক যুবকের আত্মত্যাগ, হাজারও মানুষের লড়াইয়ের ঐতিহ্য আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়।    
 

Comments :0

Login to leave a comment