KMC Budget

কলকাতায় একশো দিনের কর্মীদের ভাতাবৃদ্ধির দাবিতে বামপন্থীদের সমর্থন অন্যদের, নীরব মেয়র

কলকাতা

নিয়োগ নেই দীর্ঘ দিন। অবসর হয়ে যাওয়ার কারণে শূন্যপদ বহু। কর্পোরেশনের বাজেট অধিবেশনে ১০০ দিনের কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধির দাবি উঠল আলোচনায়।
গত সোমবার একশো দিনের কর্মীদের হয়ে কথা বলেন সিপিআই(এম) কাউন্সিলর নন্দিতা রায়। মঙ্গলবার বিরোধীদের পাশাপাশি তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশকেও এই কথা বলতে হলো কলকাতা কর্পোরেশেনে।   
দিনে ২০২ টাকা মজুরি পান একশো দিনের কর্মীরা। এঁরাই বর্তমানে কলকাতা কর্পোরেশনের মূল চালিকা শক্তি। কর্মী নিয়োগ নেই স্থায়ী পদে। কর্মীর সঙ্কট এদিন মেনে নিয়েছেন মেয়র পরিষদ সদস্য দেবব্রত মজুমদার। 
একশো দিনের কাজে সুপারভাইজার পদে নিযুক্তদের দৈনিক ভাতা ৪০৪ টাকা। এছাড়াও দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের দৈনিক ভাতা ৩০৩ টাকা। বাকিদের ২০২ টাকা। 
এই ভাতা বাড়ানোর প্রথম দাবি করেন সিপিআই(এম) কাউন্সিলর নন্দিতা রায়। 
এরপরই মঙ্গলবার, বাজেট অধিবেশনে তৃতীয় দিনের আলোচনায়, একই কথা তুলে ধরেন কংগ্রেস কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক। কলকাতা কর্পোরেশনের বাম পরিষদীয় দলনেতা সিপিআই’র কাউন্সিলর মধুছন্দা দেবও সরব হন। 
তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাসকেও তুলতে হয়েছে এই ভাতা বাড়ানোর দাবি।
বাম পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে মধুছন্দা দেব একাধিক দাবির মধ্যে এই ১০০ দিনের কর্মীদের ভাতা বাড়ানোর কথা দৃঢ়ভাবে বলেন। এছাড়াও শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগের কথা বলেন তিনি। দেব বলেন, জঞ্জাল বিভাগ প্রচুর আধুনিক সরঞ্জাম কিনছে। কিন্তু সেই আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করার জন্য দক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন। তাঁর দাবি, একশো দিনের অস্থায়ী কর্মী বহু রয়েছেন। তাঁদেরকে দক্ষ শ্রমিকে রূপান্তর করে স্থায়ী করা হোক। কর্মীর সংখ্যা না বাড়ানো হলে কর্পোরেশন চলতে পারে না। 
দেব বলেন, কলকাতায় জনসংখ্যা বেড়েছে। তাই প্রয়োজন অতিরিক্ত কর্মীবাহিনী। তিনি বলেছেন ২০১০ সালে বাম পরিচালিত বোর্ড চলে যাওয়ার সময় প্রতি ওয়ার্ডে ৮০ থেকে ৮৫ জন শ্রমিক কাজ করতেন। যার সংখ্যা এখন প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে।" 
পশ্চিমবঙ্গ শহুরে রোজগার যোজনার ভারপ্রাপ্ত মেয়র পরিষদ সদস্য অসীম বসু বাজেট আলোচনা একশো দিনের কর্মীদের ভাতা বাড়ানোর জন্য মেয়রের কাছে আবেদন জানান। 
৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠকও এদিন ১০০ দিনের কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভাতা বাড়ানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, স্থায়ী কর্মীরা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে চলে যান। পরে তাদের দিয়ে অতিরিক্ত কোন কাজ থাকলে তা করানো যায় না। এই সময় ১০০ দিনের কর্মীরাই সমস্যা সমাধান করেন। তাঁদের চার ঘন্টার জায়গায় ৬ ঘন্টা, অনেক ক্ষেত্রেই সাত ঘন্টাও কাজ করতে হয়। তাঁদের দিকে নজরও দেওয়া হোক।"
মঙ্গলবার কলকাতা কর্পোরেশনের ২০২৬-২৭ বাজেটের জবাবী ভাষণে মেয়র ১০০ দিনের কাজ বা শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগের বিষয়ে একটিও কথা বললেন না। বিতণ্ডায় জড়ালেন বাজেট বহির্ভূত বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে। 
বাজেট শেষের পর হতাশার সঙ্গে বামফ্রন্ট কাউন্সিলররা জানান বাজেট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়নি। বাজেট বহির্ভূত কথা অনেক হলো। কলকাতা কর্পোরেশনের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ঘটনা খুবই হতাশাজনক।

Comments :0

Login to leave a comment