যানজট, নিরাপত্তার হুমকি সহ জনগণের শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার অজুহাত দিয়ে মঙ্গলবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যে যে কোনও রকম জনসভা, মিছিল এবং বিক্ষোভকে এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হলো।
শনিবার নির্দেশ জারি করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টরের কার্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, "অনিয়ন্ত্রিত জনসমাবেশ"-র ফলে আইনশৃঙ্খলার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমন তথ্যের ভিত্তিতেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে এর আগে অন্য একটি ক্ষেত্রে পুলিশের তরফে জারি করা একটি নির্দেশিকাকেও হাতিয়ার করেছে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর মনোজ কুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন, অতীতে আয়োজকরা প্রায়শই এই ধরনের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, পরে যা তীব্র আকার ধারণ করে এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে।
নির্দেশিকাতে বলা হয়েছে, " পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, স্লোগান দেওয়া এবং বক্তৃতা দেওয়া, মশাল সহ যেকোনো বিপজ্জনক উপকরণ বহন করা নিষিদ্ধ"। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, "নিষেধাজ্ঞাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে এবং এক মাস পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।"
হংসরাজ কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মিঠুরাজ ধুসিয়া এই পদক্ষেপকে "একগুঁয়ে দমন" বলে অভিহিত করেছেন। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকা উচিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে তা স্বীকার করেও ধুসিয়া বলেন যে, সমাবেশের ফলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এই বিষয়টি একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। এক বিবৃতিতে এই আদেশ প্রত্যাহারের দাবি ও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন যে, প্রেক্টরের অফিস একতরফা ভাবে জনসভার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৈরি হওয়া একটি বিতর্কের পরেই এই আদেশ দেওয়া হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি, একটি সামাজিক ন্যায়বিচার কর্মসূচিতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ইতিহাসবিদ এস ইরফান হাবিবের উপর এক বালতি জল ছুঁড়ে মারা হয়েছিল। সঙ্ঘ অনুগামী এবিভিপি’র বিরুদ্ধে ওঠে অভিযোগ। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ দুটি এফআইআর ও দায়ের করেছিল।
Delhi University
মশাল ‘বিপজ্জনক‘! আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ
×
Comments :0