জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মেলনী। সংগঠনের জলপাইগুড়ি শাখার ডাকে মঙ্গলবার পিডব্লিউডি মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে জেলা শাসকের দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করেন বিশেষভাবে সক্ষম এই নাগরিকরা। কিন্তু জেলা শাসকের গেটে পুলিশ মিছিল আটকে দেয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষভাবে সক্ষম বহু মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে সংগঠনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক ভাতা বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বর্তমান বাজেটে অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি এবং নতুন যুবশ্রী ভাতা চালু হলেও প্রতিবন্ধীদের মানবিক ভাতা বাড়ানো হয়নি।
সংগঠনের সম্পাদক রঞ্জিত কুমার রায় বলেন, “বারবার আবেদন, স্মারকলিপি ও আলোচনার পরও আমাদের ন্যায্য দাবি মানা হচ্ছে না। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে ১ হাজার টাকার ভাতায় কোনওভাবেই সংসার চালানো সম্ভব নয়। বহু প্রতিবন্ধী মানুষ ও তাঁদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মানবিক ভাতার পরিমাণ ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করতে হবে। পাশাপাশি বিগত বছরের বকেয়া মানবিক ভাতার আবেদনগুলি দ্রুত অনুমোদন, প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে নিয়মিত ভাতা প্রদান, প্রত্যেক প্রতিবন্ধীকে অন্ত্যোদয় বা অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা এবং আবাসন প্রকল্পে প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
জেলা সভাপতি জয়দীপ চক্রবর্তী বলেন, “বাজেটে বিভিন্ন ভাতা বাড়ানো হয়েছে, নতুন যুবশ্রী ভাতা চালু হয়েছে, কিন্তু প্রতিবন্ধীদের ভাতা বাড়ানো হলো না কেন? আমরা সরকারের কাছে ভিক্ষা চাইছি না, চাইছি বাঁচার অধিকার। সরকার অন্তত আমাদের দুমুঠো ভাত খাওয়ার সংস্থান করে দিক।”
দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে রাজ্যব্যাপী নবান্ন অভিযানে জলপাইগুড়ি জেলার প্রতিবন্ধী মানুষরাও শামিল হবেন বলে নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দেন।
Comments :0