দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার ডুয়ার্সের বামনডাঙা চা বাগানের গেট খুলল। গত বছরের ৫ অক্টোবর জলঢাকা, গাঠিয়া ও কুচি ডায়না নদীর বিধ্বংসী বন্যায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল এই বাগানটি। প্রকৃতির সেই তাণ্ডবে ১১ জন শ্রমিক ও তাঁদের পরিজন প্রাণ হারিয়েছিলেন, ভেসে গিয়েছিল অসংখ্য ঘরবাড়ি। সেই থেকে কর্মহীন হয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন শয়ে শয়ে চা শ্রমিক। মঙ্গলবার বাগান খুললেও বকেয়া মজুরি ও শাসকদলের নেতাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শ্রমিক মহল্লা।
গত ৫ অক্টোবরের প্রলয়ঙ্করী বন্যা বামনডাঙার শ্রমিকদের জীবন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল বিঘার পর বিঘা চা গাছ। এরপরই যুক্ত হয় আইনি জটিলতা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি’র হানার পর একটি নোটিশ জারি করে জানানো হয়েছিল যে, বর্তমান মালিক ঋত্তিক ভট্টাচার্য এই বাগান থেকে পাতা তুলতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষ বাগান চালাতে অস্বীকার করলে অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে যায় বাগানটি। শ্রমিক নেতা রামলাল মুর্মু জানান, রিতিক ভট্টাচার্য পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি নিয়ে বাগানটি চালাতেন, কিন্তু বন্যার পর ইডির ঝামেলার কারণে তা বন্ধ থাকে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে অবশেষে এই জট কেটেছে। বাগান বন্ধ থাকার সুযোগে একদল অসাধু চক্র বাগানের মূল্যবান ছায়া গাছ কেটে পাচার করেছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। এমনকি ফ্যাক্টরির লোহার রড ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন শ্রমিকরা।
এদিন বাগান খোলার খবর পেয়ে তৃণমূলপন্থী শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সেখানে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা শ্রমিকরা নেতাদের ঘিরে ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের সাফ কথা, বিপদের দিনে যখন ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছিল, তখন নেতাদের দেখা মেলেনি, এখন কৃতিত্ব নিতে আসার প্রয়োজন নেই।
শ্রমিক নেতা রামলাল মুর্মু জানিয়েছেন, ‘‘ম্যানেজমেন্ট শ্রমিকদের একটি ফোর্টনাইটের (১৫ দিন) বকেয়া বেতনের মধ্যে মাত্র ৪-৫ দিনের টাকা মিটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের ১২-১৩ দিনের বড় অংকের বকেয়া এখনও বাকি। এই পাওনা না মেটানো পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে অস্বীকার করেন। ফলে মঙ্গলবার বাগান খুললেও কেউ কাজে নামেননি। ম্যানেজমেন্ট আগামী শনিবার বাকি টাকা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বাগান খুললেও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ এবং বন্ধ থাকাকালীন সময়ের বকেয়া পাওনা মেটানো এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। বামনডাঙা চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের নেতা বসন্ত প্রধান দাবি করেছেন, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং বাগানে স্থায়ী কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
Jalpaiguri
খুলল বামনডাঙা চা বাগান, বকেয়া ঘিরে শ্রমিক বিক্ষোভ
×
Comments :0