Dhupguri

যুবসাথী-র শিবিরের পাশে ‘ভোট সচেতনতা প্রচার’, তুমুল বিতর্কে ধূপগুড়ির মহকুমা শাসক

জেলা

যুবসাথী প্রকল্পের শিবিরের পাশেই ইভিএম নিয়ে সচেতনতা প্রচার।

সঞ্জিত দে: ধূপগুড়ি

যুবসাথী প্রকল্পের শিবিরের পাশেই নকল ইভিএম মেশিন বসিয়ে ভোট সচেতনতার পরিকল্পনার নামে ভোট নিশ্চিত করার খেলায় এবার উঠে পড়ে লাগলো প্রশাসন। এমনই দৃশ্য দেখা গেল ধূপগুড়ি শহরে। একদিকে যুবসাথীর আবেদন ফরম পূরণের ডাক বেকার যুবক যুবতীদের, অন্যদিকে তাঁদেরই সামিল করে নকল ইভিএম মেশিন বসিয়ে ভোট মহড়ার মাধ্যমে কৌশলে দলের ভোট নিশ্চিত করার অভিযোগ উঠলো তৃণমূলের বিরুদ্ধে। 
যুবসাথী প্রকল্পের নাম নথিভুক্তকরণ এবং ইভিএম নিয়ে সচেতনতা প্রচার এক ছাদের তলায় করা নিয়ে জোর সমালোচনার মুখে এখন ধূপগুড়ি মহকুমা প্রশাসন। সোমবার সকালে শহরের নিয়ন্ত্রিত বাজার চত্বরে মহকুমা শাসকের নবনির্মিত ভবনে এবং ৫ নং ওয়ার্ডে পৌরসভা ভবনে দুটি শিবির করা হয় যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনপত্র বিলি ও নাম নথিভুক্তকরণের জন্য। এই দুই শিবিরেই এক পাশে বসানো হয় আর এক শিবির। যেখানে নকল ইভিএম মেশিন দিয়ে উপস্থিত যুবক যুবতীদের দেখানো হয় কিভাবে ভোট দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা নিজে উপস্থিত থেকে ভোট দেবার কৌশল নিয়ে সচেতন করেন। বিতর্ক এখানেই নব্য ভোটারদের বিরাট অংশ যুবক যুবতীরা বেকার ভাতার জন্য যখন লাইনে দাঁড়িয়ে তখনই কেন এই অংশকে বেছে নিয়ে ভোটের সচেতনতা করার পরিকল্পনা নেওয়া হল। উদ্দেশ্য কি বেকার ভাতা পাবার তালিকায় নাম তুলতে গেলে তৃণমূলের পক্ষে যাতে ভোট পড়ে তার নিশ্চিত করন। সাংবাদিকরা মহকুমা শাসকের কাছে প্রশ্ন করেন এই পরিকল্পনা কি নির্বাচন  কমিশনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি?  তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এই সচেতনতা করা দরকার এক সাথে অনেক মানুষকে পাওয়া গেছে তাই করা। এর বাইরে তিনি আর কিছু  বলতে চাননি। যুবসাথী প্রকল্পে নাম নথীভুক্ত করতে আসা তন্ময় পাল প্রতুল চক্রবর্তী কুহেলী দাস বলেন, ‘‘এই সরকার চাকরি দেবে না জানি কিন্তু আমাদের অভিভাবকদের থেকে ট্যাক্স আদায় করেছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছে। এই ভাতা নিয়ে দ্রব্যমূল্য কিছুটা লাঘবের চেষ্টা করি। এই যুবক যুবতীরা স্পষ্ট জানিয়েদেন ভোট দেবার সময় সব ভেবে চিন্তেই ভোট দেব। আমাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করলেই হবে নাকি।
এই প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) সদর এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ‘‘যুবসাথী প্রকল্পের নামে যুবদের সাথে প্রতারণা করার আরেক কৌশল। ভোট শেষ হলে নতুন সরকার আসবে এই সরকার থাকবে না। তাই যুবক যুবতীদের ভোট নেবার প্রতারণা করার চক্রান্ত এই প্রকল্প। অন্যদিকে ইভিএম নিয়ে সচেতনতা করার কর্মসূচি নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেনি। সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি আগে ডাকা হয়নি, ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণ হয়নি। যুবক যুবতীদের প্রভাবিত করে শাসকদলকে বাড়তি সুবিধা দিতে মহকুমা শাসক এই পরিকল্পনা করেছেন। মহকুমা শাসক পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে পদে রয়েছেন। তিনি নাগরিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ সচেতনতার কর্মসূচি নিতে দেখছিনা। আমরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে বার বার ডেপুটেশন দিয়েছি সেগুলো নিয়ে তার উচ্চ বাচ্য নেই। এই ঘটনা থেকে পরিস্কার আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনে রাজ্য প্রশাসন আরও ন্যাক্কারজনক ভাবে শাসক দলের তাঁবেদার  করবে।

Comments :0

Login to leave a comment