Attacks on Journalist

সরকারী আধিকারিকের হাতে সবং‘এ আক্রান্ত সাংবাদিক

জেলা

আক্রান্ত সাংবাদিক

নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন স্থানীয় মানুষজন। বিক্ষোভ চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারী আধিকারিকের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে  আক্রান্ত হন সাংবাদিক। তাঁর গালে চড় মেরে বুম ভেঙে ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া এবং মুখে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগ। খবর পেয়ে সহকর্মীরা গিয়ে রক্তাক্ত সাংবাদিককে উদ্ধার করে সবং হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত  সাংবাদিক ইন্দ্রজিত সাহু।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ সহ প্রতিবাদ হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং এলাকার দেভোগ অঞ্চলের ভিকনিবাটিটাকি- এলাকায় নির্মীয়মাণ সেতুর কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভে ঠিকাদারী সংস্থার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেই খবর সংগ্রহে বৈদ্যুতিন মাধ্যম জি-২৪ঘন্টার চিত্রসাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ সাহু ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে দেখা যায় তৃণমূলের পতাকায় মুড়ে দিয়ে কাজ চলছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, কোনো ওয়ার্ক অর্ডার না টাঙিয়ে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। 
অভিযোগ, এক বছরও হয়নি ঐ জায়গায় পিলার তুলে তার উপর কাঠের সেতু তৈরি  হয়েছিল মন্ত্রী ও এলাকার বিধায়ক মানস ভূঁইয়ার তত্বাবধানে। সেই পিলারগুলি ইতিমধ্যে ফাটল ধরে চাঙড় ভেঙে পড়ছে। এখন আবার সেই জায়গায় কংক্রিটের সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। মানুষের অভিযোগ, এখন যে পিলারগুলি তোলা হচ্ছে তার সবটায় সমপরিমানে লোহার রড নেই। প্রতি তিনটি পিলারের মাঝে একটি পিলারের মধ্যে কাদামাটি দেখা যাচ্ছে। ওয়ার্ক অর্ডার প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষ। সেই বিক্ষোভের খবর করতে গেলে দেখা যায় প্রসাশনিক আধিকারিক ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করছেন। এমন সময় সাংবাদিক গ্রামীবাসীদের অভিযোগ সম্বন্ধে আধিকারিকের বক্তব্য কি জানতে চাইলে তিনি ক্ষেপে গিয়ে বুম ভেঙে ক্যামেরায় আঘাত করেন। এমনকি, সাংবাদিককে গালে চড় মারার পর মুখে ঘুষিও মারেন বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন,  আচমকাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ইঞ্জিনিয়ার সংবাদকর্মীর উপর চড়াও হন। তাঁকে মারধর করা হয় এবং মুখে আঘাত লাগে। ঠোঁট চোয়াল কেটে রক্ত ঝরে পড়ে। এই আধিকারিকের এহেন আক্রমণ করার ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর প্রেস ক্লাবের সম্পাদক সমীর মন্ডল ও সভাপতি সৈকত সাঁতরা। অবিলম্বে এই ঘটনায় আক্রমণকারী আধিকারিকের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment