Manishankar Mukherjee

প্রয়াত সাহিত্যিক শঙ্কর

রাজ্য

প্রয়াত বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখার্জি (শঙ্কর)। শুক্রবার বেলা ১:৫০মিনিট নাগাদ তিনি প্রয়াত হয়েছেন। বয়সজনীত কারণে তিনি অসুস্থ ছিলেন। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। 
১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা হরিপদ মুখার্জি ছিলেন একজন আইনজীবী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বোমার ভয়ে তাঁরা হাওড়ায় চলে আসেন। ১৯৪৭ সালে তাঁর বাবার অকাল মৃত্যু হলে কিশোর বয়সেই তাঁকে সংসারের হাল ধরতে হয়।
তাঁর পড়াশোনা শুরু হয় হাওড়া জেলা স্কুলে এবং পরে বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশনে। এরপর তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন, যদিও অর্থাভাবের কারণে তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল।
শঙ্করের কর্মজীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। জীবনধারণের জন্য তিনি নানা ধরনের কাজ করেছেন। তিনি টাইপরাইটার ক্লিনার, গৃহশিক্ষক এবং জুট ব্রোকারের কনিষ্ঠ কেরানি হিসেবে কাজ করেছেন।
পরবর্তীতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের শেষ ইংরেজ ব্যারিস্টার নোয়েল বারওয়েলের মুহুরি হিসেবে কাজ শুরু করেন। বারওয়েল সাহেবের সান্নিধ্যই তাঁর সাহিত্য জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শঙ্করের সাহিত্য মূলত তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ১৯৫৫ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস 'কত অজানারে' প্রকাশিত হয়, যা ব্যারিস্টার নোয়েল বারওয়েলকে কেন্দ্র করে লেখা।
চৌরঙ্গী (১৯৬২)তাঁর সবথেকে জনপ্রিয় এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ক্লাসিক উপন্যাস। শাহজাহান হোটেলকে কেন্দ্র করে লেখা এই উপন্যাসটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
সীমাবদ্ধ ও জন-অরণ্য এই দুটি উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
স্বামী বিবেকানন্দের জীবন নিয়ে তাঁর গবেষণা ও লেখা অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ঘর ও বাহির, পারিবারিক, রসবতী, চরণ ছুঁয়ে যাই, একা একা একাশি তাঁর উল্লেখ যোগ্য লেখা।
২০১৬ সালে তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট সম্মানে ভূষিত হন। ২০২১ সালে তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

Comments :0

Login to leave a comment