৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা বিশ্বগুরুর আত্মনির্ভর ভারতের যে বিজ্ঞাপন দুনিয়াকে বিস্ময়ে হতবাক করে দিতে চেয়েছিল সেটা যে শেষ পর্যন্ত ভারতের সুমহান মান-মর্যাদাকে এভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে সেটা কল্পনাও করা যায়নি। নেট বিশ্বে কার্যত হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে ভারতের এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবনা রসিকতা। আর এই রসিকতার খোরাক সর্বাগ্রে জুগিয়েছেন মোদীর অতি পছন্দের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
আত্মনির্ভরতা, দেশীয় উদ্ভাবনের গৌরব গাঁথা রচনা করতে গিয়ে দিল্লির বুকে যে মহাউৎসবের আয়োজন করা হয়েছে সেখানে কিনা চীনের তৈরি রোবট শারমেয়কে দেখাতে হলো ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবন হিসেবে। একা চীনে রক্ষে নেই দোসর দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোনও। সত্যি লজ্জায় মুখ ঢাকারও উপায় নেই ভারতবাসীর।
বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এখন এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী পৃথিবীকে কারা নিয়ন্ত্রণ করবে সেটা নির্ভর করছে কাদের হাতে থাকবে সর্বোন্নত এআই। এআই গবেষণা ও উদ্ভাবনে ভারতও পিছিয়ে নেই। সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে তা দুনিয়ার সামনে মহা সমারোহে জাহির করার জন্য মোদী সরকার দশ হাজার কোটি টাকা খরচ করে আয়োজন করেছে ‘ইন্ডিয়া এআই ইম্প্যাক্ট সামিট’। উদ্বোধন করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এসেছেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুলা, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাঁকর। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থার কর্তারাও হাজির। বিশ্বের বহু দেশের বহু প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন।
এহেন মহা ইভেন্টে নয়ডার এক বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয় গালগোটিয়া একটি রোবট শারমেয় দেখিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। তাদের দাবি তাদের সেন্টার অব এক্সেলেন্স ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে তৈরি করেছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত রোবটটি। মডেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অরিয়ন’। অত্যুৎসাহী মন্ত্রী বৈষ্ণব নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই রোবট কুকুরের ভিডিও পোস্ট করে দুনিয়াকে জানিয়ে দেন ভারত পিছিয়ে নেই। কিন্তু নীরবে সেই পোস্ট মুছে দিতে তাঁর বেশিক্ষণ লাগেনি। কারণ ইতিমধ্যে ধরা পড়ে গেছে মিথ্যাচারের গল্প।
যে রোবটটি দেখানো হয়েছে সেটি আসলে চীনের রোবটিক্স সংস্থা ইউনিটি-র তৈরি ‘ইউনিট্রি জি ও টু’ মডেলের রোবট। বাজারে মোটামুটি চার লক্ষ টাকায় যে কেউ কিনতে পারে। বাজার থেকে কেনা চীনের তৈরি রোবটকে নিজেরা ৩৫০ কোটি টাকায় বানিয়েছে বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। এখানেই শেষ নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার এক সংস্থার তৈরি ড্রোন বাজারে যা ৫০ হাজার টাকায় কিনতে পাওয়া যায় সেটাকেও বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজেদের তৈরি বলে দাবি করেছে। প্রসঙ্গত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি করোনার সময় শব্দের কম্পন দিয়ে করোনা ভাইরাস ধ্বংস করার এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করে হাসির রোল তৈরি করে দিয়েছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ভরসা রেখে মোদীর ভারত দেশের এআই ভবিষ্যতের গল্প রচনা করেছে।
editorial
কাকের বাসায় কোকিলের ডিম
×
Comments :0