শুক্রবার সন্ধ্যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দুই ছাত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসএফআই এবং ডব্লুটিআইয়ের সমর্থকদের মধ্যে (উই দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট) হাতাহাতি হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আহত হওয়ার পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করতে গেলে এক অধ্যাপকের গায়েও হাত তোলা হয় বলে খবর।
এসএফআই কর্মী এবং কেমিস্ট্রি বিভাগের দুই ছাত্র বিভিন্ন ক্লাসে সাংকৃতিক অনুষ্ঠানের গিয়ে প্রচার করছিলেন। পরে তাদের চিহ্নিত করে ডব্লুটিআই সংগঠনের ঘরে ডাকা। মারধর করার পাশাপাশি ডব্লুটিআইয়ের কর্মীরা রাগ্গিং ও করেন ওই দুই ছাত্রকে। পরে ওই দুই ছাত্র গোটা বিষয়টি এসএফআই কর্মীদের জানায়। এসএফআই'র এক ছাত্র নেতা কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ডব্লুটিআইয়ের তরফে তাঁকে থ্রেট দেওয়া হয়। বলা হয়, "তুই আয় তোকে দেখে নিচ্ছি"। ওই ছাত্রনেতা ডব্লুটিআই সংগঠনের ঘরে পৌঁছালে। ৫০-৬০ জন ডব্লুটিআইকর্মী তার উপর চড়াও হয়। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহা গোটা বিষয়টি মেটানোর জন্য কথা বলতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। হাতাহাতি বেড়ে এমন পর্যায় পৌঁছায় যে ওই অধ্যাপকের গায়েও হাত তোলেন ডব্লুটিআইয়ের কর্মীরা।
এই বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এসএফআই সাইন্স ইউনিট'র তরফে বলা হয়, "ডব্লুটিআই আগেও রাগ্গিং'র মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই দুই ছাত্রের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি, ওই অধ্যাপকের গায়ে যারা হাত তুলেছেন তাদের চিহ্নিত করেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে।"
এসএফআই কলকাতা জেলা সভাপতি বর্ণনা মুখার্জি বলেন, "ক্যাম্পাসের মধ্যে বহিরাগত অনুপ্রবেশের একটা নতুন নজির সৃষ্টি করলো এই ঘটনা। তৃণমূল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যে প্রবেশ করতে পারছে না বলে এই ধরণের সংগঠনের সাহায্য নিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। গণতান্ত্রিক ভাবে অভিযোগ জানাতেই পারেন কেউ। সেই জায়গায় একজন অধ্যাপকের গায়ে হাত তোলা হয়েছে,এই ঘটনার ধিক্কার জানাচ্ছি।"
WTI attacks SFI workers
এসএফআই কর্মীদের উপর আক্রমণ ডব্লুটিআই'র, বাদ গেলেন না অধ্যাপকও
ছবি- ডব্লুটিআইয়ের আক্রমণে আহত ছাত্র এবং অধ্যাপক।
×
Comments :0