CPIM

বেশিরভাগ আসনে সমঝোতা সম্পন্ন, বামপন্থার পুনরুত্থানের লক্ষ্যে নির্বাচনে লড়বে সিপিআই(এম)

রাজ্য

এসআইআর নামে আতঙ্ক ছড়ানোর বিরুদ্ধে সিইও অফিসের সামনে বিক্ষোভ বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর|

বামপন্থার পুনরুত্থানের লক্ষ্যে রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচনে লড়াই করবে সিপিআই(এম)। ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে দ্বিমেরু তৈরির কৌশলকে মোকাবিলা করবে জীবন-জীবিকার বিষয়গুলিকে সামনে এনে। বিভাজনের জন্য চালু এসআইআর’র প্রতিবাদে আন্দোলন গোড়া থেকে জারি রয়েছে। সেই প্রতিবাদ তীব্রতর হবে।
দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকের পর শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই লক্ষ্য জানিয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, ‘‘বৈধ কোনও ভোটারের নাম বাদ পড়লে কমিশন এবং রাজ্য সরকারের ঘুম ছুটিয়ে দেওয়া হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘এসআইআর’র নামে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
রাজ্য কমিটির বৈঠকে অংশ নেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। 
নির্বাচনী রণকৌশল প্রসঙ্গে সেলিম বলেন যে প্রথমতঃ সিপিআই(এম)-কে মজবুত করতে হবে। দুই, সংহত করতে হবে বামফ্রন্টকে। তিন, বামফ্রন্টের বাইরে অন্য বামপন্থী দল, শক্তি, ব্যক্তিবর্গকে শামিল করা হবে। তার বাইরে যে যে শক্তি তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে রয়েছে এমন অংশকে শামিল করা হবে। 
সেলিম জানিয়েছেন যে বামফ্রন্ট, তার বাইরে বামপন্থী দল এবং সহযোগী অন্য শক্তিগুলি সব আসনেই প্রার্থী দেবে। সেই লক্ষ্যে নব্বই শতাংশের বেশি আসনে সমঝোতা হয়ে গিয়েছে। দশ শতাংশের কম আসন নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাবে। 
সেলিম বলেছেন, ‘‘সামাজিক বিন্যাসকে মাথায় রেখে আদিবাসী, তফসিলি, মতুয়া, সংখ্যালঘু, মহিলাদের মতো অংশগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আলোচনা ইতিবাচক বামপন্থী শক্তিগুলির সঙ্গে। আরও যারা সঙ্গী হবে তাদের সঙ্গেও ঐকমত্যের দিকে এগনো যাচ্ছে। আমরা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজ্যে তৈরি বাইনারি ভাঙার লক্ষ্যে এগচ্ছি।’’
সেলিম জানিয়েছেন যে পার্টির রাজনৈতিক লাইন অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে লড়াই চলবে। সংবিধানকে রক্ষা করার লড়াই চলবে। নির্বাচনী সংগ্রামে তাকে প্রতিফলিত করা হবে।
এসআইআর প্রসঙ্গে এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করে সেলিম বলেন, ‘‘কমিশন এবং রাজ্য সরকারের অপদার্থতা পরিষ্কার করে দিচ্ছে বিচারবিভাগের এই হস্তক্ষেপ।’’ তিনি বলেন, ‘‘এসআইআর করা হয়েছে আরএসএস’র বই থেকে অধ্যায় তুলে এনে। নির্বাচন কমিশন বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘অন্য সব আলোচনাকে পিছিয়ে দিতে চাইছে। কাজের মজুরি, ফসল বা কর্মসংস্থান থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, নাগরিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষার মতো বিষয়গুলি নিয়ে রাজনীতিকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। অথচ মানুষের সঙ্গে আলোচনায় এই দাবিগুলিই সামনে আসছে। সেই দাবি নিয়ে আমরা আন্দোলন চালাচ্ছি। নদী-বাঁধ, প্রকৃতি রক্ষার দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে। বাইনারি করার জন্য মন্দির-মসজিদ আনা হচ্ছে। মানুষ এই রাজনীতিতে আগে বিভ্রান্ত হতেন, এখন ক্লান্ত হচ্ছেন। সেই সময়েই বাইনারির লক্ষ্যে আনা হয়েছে এসআইআর।’’
সেলিম বলেন, ‘‘প্রথম থেকে এসআইআর’র বিরুদ্ধে লড়াই করছি। সহায়তা কেন্দ্র করা হয়েছে। ব্লক দপ্তর থেকে বিডিও দপ্তর বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। সিইও দপ্তরে হয়েছে বিক্ষোভ।’’ তিনি বলেন, ‘‘২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা। ২৭ ফেব্রুয়ারি আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে যাব।’’   
এক প্রশ্নে তিনি বলেন যে নবীন অংশকে দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছে সিপিআই(এম)। এমন একজন কর্মীকেও হারানোর প্রশ্ন উঠলে তা সন্তান হারানোর মতো বেদনাদায়ক। তিনি জানান যে প্রাক্তন ছাত্রনেতা এবং রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতিকুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে। এই বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হলে জানিয়ে দেওয়া হবে।

Comments :0

Login to leave a comment