উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। চলতি মাসের শেষের দিকে শেষ হবে পরীক্ষা। তারপর উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজের দিকে পা বাড়াবেন। কিন্তু রাজ্যের একাধিক কলেজে গতবারই ভর্তি হয়নি আসন।
অভিষেক ব্যানার্জি যেই জেলা থেকে সাংসদ সেই জেলার একাধিক কলেজে ফাঁকা রয়েছে আসন। যেমন অভিষেকের নিজের কেন্দ্রের কলেজ ডায়মন্ড হারবার শিশুরাম দাস কলেজ, সেখানে মোট আসন ৭৬৫। অনার্সের আসন ১৪০, পাস কোর্সে আসন ৬২৫। কলেজের তথ্য বলছে অনার্সে ভর্তি হয়েছে মাত্র ২০ জন। পাসে ভর্তি হয়েছে ১১৯ জন।
ডায়মন্ড হারবার ফকিরচাঁদ কলেজ। মোট আসন ২৪৭৩ অনার্সে আসন ১০৯৭। পাস কোর্সে আসন ১৩৭৬। অনার্সে ভর্তি হয়েছে ৫৪৫ জন, পাসে ভর্তি হয়েছে ৬৮৮ জন।
সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ে মোট আসন ৩১৩২ অনার্সে আসন সংখ্যা ১৩৪৯। পাস কোর্সে আসন ১৭৮৩। অনার্সে ভর্তি হয়েছে ২৬৯ জন, পাসে ভর্তি হয়েছে ৬৭৮।
সাগর মহাবিদ্যালয়ে মোট আসন ১৪৮৩, অনার্সে আসন ৫০৫, পাস কোর্সে আসন ৯৭৮। অনার্সে ভর্তি হয়েছে ১৭৬ জন, পাসে ভর্তি হয়েছে ৩৯৭ জন।
ক্যানিং বঙ্কিম সর্দার কলেজে মোট আসন ১৬০৫ অনার্সে আসন ৬৫৩ পাস কোর্সে আসন ৯৫২। অনার্সে ভর্তি হয়েছে ১২৬ জন, পাসে ভর্তি হয়েছে ৩০৪ জন।
রাজ্যের মোট কলেজের আসন সংখ্যা ৯.৫ লক্ষ। তার মধ্যে ২০২৫ সালে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩.৫ লক্ষ।
এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘‘এসএফআই এই সামাজিক সঙ্কটকে চিহ্নিত করে এসেছে, বলেছে সরকার সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা এবং লেখা পড়ার গুরুত্বকে শেষ করে দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। তার প্রমাণ এই বছরের কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া।’’ ২০২৪ সাল থেকে কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া জন্য কেন্দ্রীয় পোর্টাল চালু করেছে রাজ্য সরকার। এই বছর দেখা গিয়েছে উচ্চ-মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের প্রায় একমাস পর চালু করা হয় পোর্টাল। সেখানে প্রথম দফায় যারা পছন্দ মতো কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। আর এই অপেক্ষায় না থেকে অনেকে বাধ্য হয়েছেন বেসরকারি কলেজে বা কোন প্রতিষ্ঠানে বেশি টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য।
এক অভিভাবকের কথায়, তার মেয়ে প্রথমে পছন্দ মতো বিষয় নিয়ে চারটি কলেজে আবেদন জানায়। কিন্তু একটি কলেজেও তার নাম ওঠেনি। স্বাভাবিক ভাবে অপেক্ষা না করে মেয়েকে তিনি বেশি টাকা দিয়ে বেসরকারি সংস্থায় ভর্তি করাতে বাধ্য হয়েছেন।
দেবাঞ্জন বলেন, ‘‘আরএসএসের এনইপির মডেল এই রাজ্য প্রয়োগ করতে চাইছে তৃণমূল। আমাদের রাজ্যের কলেজ গুলোয় লেখা পড়ার কোন পরিবেশ নেই। সরকারের মদতে কলেজ গুলোয় গুন্ডাদে দাপাদাপি চলছে। বাবা মায়েরা ভয় পাচ্ছে ছেলে মেয়েদের পাঠাতে। এই সরকারের আমলে দেখা গিয়েছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগ তুলে দিতে বাধ্য হয়েছে পড়ুয়া না থাকায়। শিক্ষক নিয়োগও করা হচ্ছে না।’’
এসএফআই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি ঋজুরেখ দাশগুপ্ত বলেন, ‘তামান্না, অরিজা দুজনেই আমাদের বোন। এদের ভবিষ্যৎ যারা শেষ করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। রাজ্যের স্কুল কলেজ ধ্বংস করছে তৃণমূল। গোটা জেলা জুড়ে তারা শিক্ষাকে শেষ করছে। ১৮ বছর বয়সে যাদের কলেজে যাওয়ার কথা তারা আজ পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে যাচ্ছে।’
College admission
কয়েকদিন পর শুরু হবে কলেজে ভর্তি, এখনও খালি কলেজের আসন
×
Comments :0