সুপ্রিম কোর্টের শুল্ক রায়ের জেরে পিছাচ্ছে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত বৈঠক।
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দু’দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের বৈঠকের কথা থাকলেও আপাতত তা হচ্ছে না।
গত শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের প্রয়োগ করে চড়া হারে শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়।
রায়ের সমালোচনা করার পাশাপাশি পৃথক বাণিজ্য আইনে ১০ শতাংশ শুল্ক বসান ট্রাম্প। আমেরিকার সময় অনুযায়ী শনিবার রাতে আবার সেই শুল্কের হার ১৫ শতাংশ ঘোষণা করা হয়।
আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে দেশের মধ্যে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। আপাতত দু’দেশের যৌথ বিবৃতিতে চুক্তির কাঠামো বয়ান প্রকাশ করা হয়েছে। আমেরিকা ভারতের পণ্যের আমদানিতে ১৮ শতাংশ শুল্ক হার রাখলেও ভারত আমেরিকার বহু পণ্যে হার শূন্য করে দিতে রাজি হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কৃষি এবং ডেয়ারির বাজার আমেরিকার বিশাল বহুজাতিক সংস্থাগুলির জন্য খুলে দেওয়া নিয়ে। আবার ভারতকে রাশিয়া তেল না কেনার শর্তে রাজি হতে হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী প্রাথমিক কাঠামোর ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী চুক্তি হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী হবে চূড়ান্ত চুক্তি।
মোদী সরকার কৃতিত্ব দাবি করে প্রচারে নেমেছিল। বলা হয়েছিল মোদীর দক্ষতায় ৫০ শতাংশ শুল্ক ১৮ শতাংশে নেমেছে। বাস্তবে ৩ শতাংশ শুল্ককে ৫০ শতাংশে নিয়ে গিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হার কী হবে, চুক্তিতে কোন পণ্যে কী নির্দিষ্ট করা হবে তা নিয়েই মাথা ঘামাতে হচ্ছে দু’পক্ষকে।
শনিবার ১৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করে ট্রাম্প ফের রায়ের পক্ষে থাকা বিচারপতিদের কড়া সমালোচনা করেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করা হয়েছে সাংবিধানিক এক্তিয়ার অমান্য করে। আমেরিকার জনপ্রতিনিধি সভা কংগগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে না।
ঘটনা হলো আমেরিকার ছোট ব্যবসায়ী থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা সেদেশেরই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করেছিল মামলা। দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সহযোগী বিভিন্ন দেশের পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ানোয় সমস্যা হয় কাঁচামালের খরচ বেড়ে যাওয়ায়। খেলনা নির্মাতা থেকে মদ আমদানিকারী ছোট বা মাঝারি সংস্থাও আবেদন জানায় আদালতে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে জেরবার হয়েছেন আমেরিকা ভুট্টা, সয়াবিন কৃষকরাও। চীন পালটা শুল্ক বসিয়ে আমেরিকার ফসল কেনা বন্ধ করেছে। মাথায় হাত পড়েছে আমেরিকার কৃষকদের। এই অংশের জন্য বিশেষ তহবিল ঘোষণাও করতে হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনকে।
Indo US Meet
শুল্ক রায়ের জেরে পিছাচ্ছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য বৈঠক
×
Comments :0