Begusarai Gang-Rape

বিহারে মহিলাকে দলবেঁধে ধর্ষণ, গোপনাঙ্গে গুলি, পাথর, কাঠের টুকরো

জাতীয়

বিহারের বেগুসরাই জেলায় এক মহিলাকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ। নির্যাতিতার অভিযোগ,গত ১১ জুন রাতে পাঁচজন তাঁকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নির্যাতিতার অভিযোগ ঘটনার সময় তাঁর স্বামীকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। এরপর অভিযুক্তরা তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে। মারধরে তিনি আহত হন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অভিযোগে তিনি জানান, ঘটনার কয়েকদিন পর তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করে এরপর তিনি চিকিৎসার জন্য যান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই দেখা যায়, নির্যাতিতার যৌনাঙ্গে বন্দুকের গুলি, কাঠের টুকরো, পাথর ঢুকিয়ে দিয়েছে অভিযুক্তরা। নির্যাতিতা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ সুপার মনীশ ব্যক্তিগতভাবে মামলাটি তদন্ত করছেন। পুলিশ জানিয়েছে বিষয়টির বিভিন্ন দিক থেকে খতিয়ে দেখছে। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ডিএসপি আনন্দ কুমার পান্ডে জানিয়েছেন, তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্যাতিতার পরিবার অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্ত করছে এবং সব দিক থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
দেশে নির্যাতিতা মহিলাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কতটা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, থানায় গেলেও অভিযোগ দায়ের করতে চায় না পুলিশ। উলটে নির্যাতিতাকেই অপমান করা হয়, ভয় দেখানো হয়। ফলে বহু ধর্ষণের ঘটনাই নথিভুক্তও হয় না। আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগ পেলে পুলিশকে বাধ্যতামূলকভাবে এফআইআর করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে পুলিশ অভিযোগ নেয় না বা অভিযোগ নিতে দেরি করে। আর এক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে ন্যায় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো নির্যাতিতাকে। বিজেপি শাসিত বা বিজেপি জোট শাসিত রাজ্যগুলিতে একের পর এক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চললেও অভিযুক্তরা উপযুক্ত শাস্তি পায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারই করা হয় না। নারী নিরাপত্তা নিয়ে লম্বা চওড়া কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি সহ মেয়েদের উপর অত্যাচার ক্রমশ বেড়েছে। লোকদেখিয়ে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হয়, তারপর আর কোনও উপযুক্ত শাস্তি হয় না। উলটে ধর্ষকদের মুক্তির দাবিতে মিছিলে হাঁটেন বিজেপি নেতারা, বিলকিস বানোর ধর্ষকরা ছাড়া পেয়ে যায়, সাজা রদ হয় কুলদীপ সেঙ্গারেরও।

Comments :0

Login to leave a comment