Iran USA Threats

ট্রাম্পের হুমকির পরই ‘প্রতিশোধের’ বার্তা খামেনেইয়ের, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক

ক্ষেপণাস্ত্র পুরোপুরি তৈরি। ইরান হামলার জন্য তৈরি আমেরিকা। এমন হুমকি দিয়েছিলেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। খানিক পরেই ইরানের রাষ্ট্রীয় নেতা মোজতবা খামেনেই প্রতিশোধের ঘোষণা করেছেন।
লিখিত বার্তায় খামেনেই বলেছেন, ‘‘আমেরিকা এবং ইজরায়েল হত্যা করেছে আার বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে। প্রতিশোধ এখন দেশের দাবি। অবশ্যই প্রতিশোধ নিতে হবে।’’
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সই করার কিছু পর থেকেই সংঘর্ষে নেমেছে আমেরিকা। ইরানও পালটা জবাব দিয়েছে। মধ্য প্রাচ্যে সংকটের স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা আরও দূরে সরে গিয়েছে। গোট বিশ্বের অর্থনীতিতে তার প্রভাবও পড়ছে। 
সমঝোতা ভেঙে নতুন দফায় হামলাকে যুক্তিগ্রাহ্য করতে আমেরিকা প্রচার করছে যে ‘ট্রাম্পকে হত্যার অভিসন্ধি’ রয়েছে ইরানের। ট্রাম্প নিজেও এই প্রচারকে উসকে দিচ্ছেন। ইরানের এই অভিসন্ধি জেনে ফেলার দাবি করেছে ইজরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইজরায়েল এবং আমেরিকা একযোগে আক্রমণ চালিয়েছিল ইরানের ওপর। ইরানের জবাবী হামলায় কাবু হয়ে আমেরিকাকে বসতে হয়েছিল আলোচনার টেবিলে। 
আমেরিকা-ইরান সমঝোতার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল লেবানন। ইরানের দাবি, লেবাননে লাগাতার হামলা বন্ধ করতে হবে ইজরায়েলকে। ইজরায়েল লেবাননের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতির শর্ত ভেঙে প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে। লেবাননের দক্ষিণে আল মানসৌরি শহরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। ইজরায়েল হামলা চালাচ্ছে প্যালেস্তাইনেও। 
নতুন দফায় আমেরিকার আগ্রাসনের পর ইরান সতর্ক রয়েছে গুপ্তহত্যা ঠেকাতে। এর আগে ইজরায়েল ইরানের একাধিক শীর্ষ স্তরের আধিকারিককে হত্যা করে গোপন আক্রমণ চালিয়ে। সেই সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতির মাত্রাও বাড়ানো হচ্ছে। 
ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী  সেদেশের সংবাদমাধ্যমে বলেছেন যে প্রযুক্তিতে লাগাতার বিনিয়োগ করা হয়েছে। যুদ্ধের সময় ড্রোনের উৎপাদন তিন গুন হয়েছে। 
ইরান-আমেরিকা সংঘাতে চড়চড়িয়ে বেড়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোদিত তেলের দাম। সমঝোতা প্রক্রিয়ার পর কমতে শুরু করেছিল দর। ফের তেলের দামে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। বাড়ছে জাহাজ পরিবহণে বিমার খরচও। 
একটি হিসেবে দেখা গিয়েছে ইরান যুদ্ধের পর ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের মুনাফা দ্বিগুন হয়েছে। 

Comments :0

Login to leave a comment