মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
সীমান্তে ‘পুশ ব্যাক’ ঘিরে সীমান্তে উত্তেজনা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশের বিজিবি এবং ভারতের বিএসএফ’র মধ্যে সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক হলেও সমস্যা মিটছে না।
দু’দেশরই একটি বড় অংশ মনে করছে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বোঝাপড়ায় সমন্বয় জরুরি। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে বিএসএফ এবং বিজিবি’র শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকও হয়। সেই সঙ্গে সবচেয়ে বিপাকে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া অসহায় মানুষ। শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সহ দিন কাটাতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে।
তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র দাবি, গত ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবারও সিলেটে জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ৩৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবি প্রবেশে বাধা দেয়। পরে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিজিবি জানিয়েছে, নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে দাবি বিজিবি’র।
উল্লেখ্য, নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর বিবৃতিতে দুই দেশই জানিয়েছিল দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা অনুযায়ী অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই প্রসঙ্গে কয়েক দফায় বলেছে যে সন্দেহভাজনদের নাগরিকত্ব যাচাই অনুরোধ পাঠানো হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তথ্য জানাচ্ছে না। বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ফেলে রাখা হয়েছে কয়েক বছর ধরে।
এদিকে বিজিবি জানায়, সীমান্তে অতিরিক্ত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে একাধিক ‘পুশ ইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় জনগণকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান হলো নাগরিকত্ব যাচাই না করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
জুন মাসে চুয়াডাঙ্গা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিজিবির দাবি, কোথাও কোথাও বিএসএফ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকটি দলকে রাতের অন্ধকারে সীমান্তের শূন্যরেখা বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে নিয়ে আসে। বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দিলে উভয় বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে যায়। কয়েকটি ক্ষেত্রে পতাকা বৈঠক ও আলোচনার পর বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের নিজেদের সীমান্তে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বলে বিজিবি’র দাবি।
জুলাই মাসেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সীমান্তে বিজিবি অতিরিক্ত টহল, নদীপথে নজরদারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখে।
Comments :0