মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হওয়ার অর্থ অন্য কোনো অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হওয়া নয়। ভারতকে বার্তা দিয়ে একথাই বলছে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক মহল। চীনের সঙ্গে চুক্তি ঘিরে ভারতের পর্যবেক্ষণকে স্বাভাবিকও মনে করছে ঢাকা।
ঢাকার বক্তব্য, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্রক ঘিরে ভারতের উদ্বেগের অবকাশ নেই। দেশের বিদেশনীতি একক শক্তিকেন্দ্রিক নয়। বরং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, বহুমুখী অংশীদারত্ব এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির ওপর ভিত্তি করে বিদেশনীতি পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি চীন সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একাধিক চুক্তি হয়েছে দু’দেশের তার মধ্যে তিস্তা নদী উন্নয়ন নিয়ে কথা এগিয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশের। এই আলোচনায় ভারতের পক্ষে অস্বস্তির কিনা তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাওয়ায় নয়াদিল্লি সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপীয় অংশীদাররাও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এর কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান, দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি এবং বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব।
এই অংশের মত, চীনের এই সক্রিয়তার প্রভাব আঞ্চলিক কূটনীতিতেও পড়ছে। ভারতের জন্য বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশী নয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিন্ন নদী, বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে কারণে ঢাকা–বেইজিং সম্পর্কের প্রতিটি বড় অগ্রগতি নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকদের নজরে থাকে। তবে ভারতের পর্যবেক্ষণকে উদ্বেগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, যে কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র তার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রতিবেশীদের সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি চীনা বিনিয়োগ উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে বাস্তব সুফল এনে দিতে পারে এবং একই সঙ্গে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে, তাহলে বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতামূলক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করতে পারবে।
অন্যদিকে, ভারসাম্য রক্ষায় ব্যর্থতা দেখা দিলে আঞ্চলিক কূটনীতিতে অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে। ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
Comments :0