ধানচাষিরা দাম পাচ্ছেন না। নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ফসলের দাম। বিজেপি সংকল্প পত্রে কুইন্টালে ৩১০০ টাকা সংগ্রহমূল্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কুইন্টালে সংগ্রহমূল্য ২০০ টাকা বাজেটে বাড়ানো হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩১০০ টাকা এখনই পাচ্ছেন না কৃষকরা।
বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আগের সরকার ধানের কুইন্টালে দিত ২৫০০ টাকা। বাড়তি ২০০ টাকা করে এখন দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে ৩১০০ টাকা কুইন্টালে করা হবে সংগ্রহমূল্য।
তবে তাঁর দাবি, অন্নদাতাদের জন্য একাধিক সহায়তা করার প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। তাঁর বক্তব্য, আলুচাষিরা কুইন্টালে ২০০ টাকা ভরতুকি পাবেন। বীজ ও কোল্ড স্টোরেজ পরিবহণে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কৃষিতে বিদ্যুতের ইউনিটে ২ টাকা ছাড়ের ঘোষণা রয়েছে বাজেটে। তার জন্য সরকার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
শুভেন্দু বলেন, রাষ্ট্রবাদী ডবল ইঞ্জিন সরকারের আট মাসের বাজেট। তিনি বলেন যে পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষা, সংস্কৃতির পুনরুত্থান, কর্মসংস্থান এবং শিল্প ও কৃষি অগ্রাধিকার পেয়েছে।
গুরুত্ব দেওয়অ হয়েছে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যকে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে যাঁরা আংশিক সময়ে সেবাদান করেন এবং সরকারের নীতি কার্যকর করেন যে সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে বাজেটে।
তিনি বলেন, ব্যাপক বিনিয়োগ ও শিল্প আনতে গেলে আইন -শৃঙ্খলা দরকার, চাঁদাবাজি-কাটমানি বন্ধ করা দরকার। সড়ক-সেতু-রেলপথ-বন্দরের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। তাঁর দাবি, এমন কোনও অংশ বর্গ নেই যা বাদ গিয়েছে বাজেটে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, ব্যবসা ও ভরতুকি কেন্দ্রিক ছোট বা মাঝারি ব্যবসার জন্য সহায়তায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেটে এই ঘোষণার সুফল কর্মসংস্থানে পড়বে। ৬-৮ মাসের মধ্যেই দেখতে পারবেন।
তিনি বলেন, ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসে নিয়োগ হবে ৩০ শতাংশ মহিলারা থাকবেন। পাহাড়বাসীদের সুবিধা হবে।
শুভেন্দু বলেন, বেকার ভাতা ৩ হাজার টাকা করে স্নাতকরা পাবেন অক্টোবর থেকে। যাদের পরিবার মাসে ১ লক্ষ টাকা রোজগার তাদের এই ভাতা বাদ থাকবে। তিনি বলেন, আপনারা একমত হবেন যে মাসে ১ লক্ষ টাকা আয় হলে এই ভাতা সেই পরিবারের কারও প্রয়োজন হবে না।
সরকারি কর্মচারীদের প্রসঙ্গে বলেন, ডিএ আন্দোলনে অংশ ছিলাম। ২০ শতাংশ ডিএ অক্টোবর থেকে পাবেন। পুজোর মাসে অ্যাকউন্টে পেয়ে যাবেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অপমান করেছেন। ‘ঘেউ ঘেউ‘ বলেছেন। আমরা বন্ধুর মতো থাকব। বাকি বকেয়া ধীরে ধীরে পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, পে কমিশন রিপোর্ট ডিসেম্বরে পড়বে।
তিনি বলেন, প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। বিধবা ভাতার টাকা পেয়েছেন পুরুষ। একজন তো চৌত্রিশ বছর দিলেন। তালা লাগানো ছাড়া কিছু করেননি। দলের লোককে চাকরি দেন। আরেক দল সাদা খাতায় চাকরি দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আশা‘ কর্মীরা স্বাস্থ্য ক্ষেত্র বাঁচিয়ে রেখেছেন। আইসিডিএস কর্মীরা নিজেরা বাড়তি অনেক কাজ করেন। তাঁদের জন্য আমরা করেছি।
প্যারা টিচার ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ভুয়ো নিয়োগ হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারে। অনেকের শারীরিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, অনেকে প্রশাসনের কাজ করেন না, দলের কাজ করেন। ২ হাজার টাকা দিয়েছি। ছাঁটাই হবে না, তবে ঝাড়াই বাছাই হবে। কাকে কত টাকা দেওয়া হবে তা ঠিক হবে ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর।
সোহরাওয়ার্দী নাম বদল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেশ করেছি। নাম নিশান রাখবো না। আর যে কটা আছে, সব তুলবো। নেতাজী র নামে হবে, প্যাটেলের নামে হবে, বিবেকানন্দের নামে হবে।’
Comments :0