West Bengal Trawler Tragedy

খোঁজ মিলল বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ট্রলারের, ৯ মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার

রাজ্য জেলা

রুপালি ইলিশের খোঁজে রওনা দিয়েছিল গত ২ জুলাই শংকরপুর থেকে জয় মা কালী নামে একটি ট্রলার ১৫ জন মৎস্যজীবীকে সঙ্গে নিয়ে। চেনা পথে এভাবে অনিশ্চিত হয়ে উঠবে তাদের জীবন কে জানতো? বঙ্গোপসাগরের বুক থেকে আচমকা নিখোঁজ হয়ে গেছে পনেরো জন মৎস্যজীবী। কোন হদিস না মেলায় শংকরপুর মৎস্য মৎস্য বন্দর থেকে খোঁজখবরের তোড়জোড় চলে। অন্য ট্রলারের সহকর্মীদের সঙ্গে ৫ জুলাই যোগাযোগ হয়েছে এরূপ খবর পাওয়া যায়। বিপত্তি ঘটলো ৬ জুলাই দুপুর বারোটার পর ওয়ারলেস এর ওপার থেকে ভেসে আসা চেনা কণ্ঠস্বর। তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। হলদিয়া উপকূল রক্ষী বাহিনীর জিপিএস ট্র্যাকার বলছে জলধা বীজের পশ্চিমে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে শেষবার অবস্থান ছিল ট্রলারটির। তারপর থেকে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। শংকরপুর ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়। তৎপরার তো তৎপরতার সঙ্গে প্রশাসন উপকূল রক্ষী বাহিনী হেলিকপ্টার ইত্যাদির সাহায্য নিয়ে নিখোঁজ ট্রলারের সন্ধান চালায়। জেলার পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বৃহস্পতিবার শংকরপুরে এসে নিখোঁজ ট্রলারের পরিবার এবং মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত উদ্ধারের তদবির করেন। ইতিমধ্যেই ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির ফলে তল্লাশির কাজে গতি বাড়েনি।
অবশেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনা কাকদ্বীপের চুলকাঠির জঙ্গলের বাঘেরচ এলাকায় নিখোঁজ ট্রলারটি উদ্ধার হয়। খবর আসে শংকরপুর মৎস্য বন্দরে। ছুটে যায় মৎস্যজীবী পরিবারের লোকজন। ৯ জন মৎস্যজীবীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৬ জন মৎস্যজীবী। রবিবার সন্ধ্যায় পাথরপ্রতিমার সীতারামপুর ঘাটে ডুবে যাওয়া ট্রলারটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। সোমবার ওই ট্রলারটির ভিতর থেকে ৯ জন মৎস্যজীবীর মৃতদেহ উদ্ধার করে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তর পর আলিপুরে কাটাপুকুরে মৃতদেহগুলি পাঠানো হয়েছে। এদিকে এই ট্রলারের এখনো নিখোঁজ ৬ জন মৎস্যজীবীর খোঁজে ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী, বনদপ্তর, সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এবিষয়ে সোমবার কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী সমিতির সম্পাদক বিজন মাইতি জানান, দেহ পচন ধরায় মৃতদেহগুলি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা করে মৃতদেহ সনাক্ত করতে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের রক্তর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।  
কান্নার রোল শঙ্করপুর থেকে কাকদ্বীপে আছড়ে পড়েছে। উল্টে যাওয়া ট্রলারটিকে সীতারামপুর ঘাটে টেনে আনা হয়। সূত্রের খবর ট্রলার থেকে  ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং এখনও ৬ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ মেলেনি। তল্লাশি চলছে ট্রলারের ভেতরে এবং সমুদ্রে। কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য দেহগুলি রাখা আছে, দেহগুলি পচে বিকৃত হয়ে গেছে। অনুমানের ভিত্তিতে চেনা ছাড়া সরকারিভাবে কোনও দেহই এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া দেহ হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। নিখোঁজ ১৫টি পরিবারের নিকটাত্মীয়দের ডেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ ও ফর্ম পূরণের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা চলছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির সহকারী মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুমন সাহা জানিয়েছেন, বর্তমানে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে মৃতদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে। এই কাজেপদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব, তার সবটুকু দিয়েই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 
শংরপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন নায়ক জানান, মৎস্যজীবীদের ৫ লক্ষ টাকার জীবনবিমা ও সরকারি সহায়তা মিলিয়ে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রায় ১ লক্ষ টাকার আর্থিক সুরক্ষা পাবে। ট্রলারটির ১৫ জন মৎস্যজীবীর মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ৯ জন (মন্দারমণি কোস্টাল থানার ৭ জন, রামনগর ও পটাশপুরের ১ জন করে), ওড়িশার ৩ জন ( একই পরিবারের তিন ভাই), নদীয়ার ২ জন এবং হাওড়া জেলার ১ জন ছিলেন। মন্দারমণি কোস্টাল থানার চাঁদপুরের নিখোঁজ মৎস্যজীবী নিত্যানন্দ রাউতের ছেলে সুমন রাউত কাকদ্বীপ হাসপাতালে পৌঁছেছেন। আরও অনেক পরিবারই হাসপাতালের মর্গে গেছেন।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ডুবে যাওয়া ট্রলারটি কি কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে সেবিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রলারটির যান্ত্রিক ত্রুটি  ছিল কিনা তদন্ত করে দেখা হবে।

ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করেছেন।

Comments :0

Login to leave a comment