Editorial

এককাট্টা

সম্পাদকীয় বিভাগ

আরএসএস’র মদতে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী শাসক সংবিধানকে উপেক্ষা করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার যত চেষ্টাই করুক না কেন দেশের সম্মিলিত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এবং নাগরিক সমাজ যেকোনও মূল্যেই হোক তার মোকাবিলা করবে। লড়াই যত দীর্ঘ মেয়াদি হোক না কেন শেষ পর্যন্ত চলবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি জয়যুক্ত হবে। সংবিধান ফের সুরক্ষিত হবে। দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ঘটবে। বহুত্ববাদী ভারতে গণতা‍ন্ত্রিক ঐক্যের পতাকা কোনও অবস্থাতেই মলিন হতে দেবে না বিরোধীরা এবং নতুন প্রজন্মের ছাত্র-যুব সমাজ। এমন অঙ্গীকার এবং দায়বদ্ধতার কথা ঘোষণা করেছে বিরোধী দলনেতা সহ সমস্ত বিরোধী দলের নেতা, ছাত্র-যুব নেতা ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্টজনরা।
মোদীর নেতৃত্বে ধর্মান্ধ হিন্দুত্ববাদী এবং স্বৈরচারীরা সংবিধানকে অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, সংবিধানের ভিত্তি স্তম্ভগুলিকেও নিজেদের কবজায় নিয়ে আসতে চাইছে। কমিশনার নিয়োগের আইন সংশোধন করে অনুগতদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন চালানোর ব্যবস্থা করে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন ব্যবস্থাটাই চৌপাট করে দেওয়া হয়েছে। মোদী জমানায় কমিশনের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি’র জয় নিশ্চিত করা। তার জন্য বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া কারচুপি, প্রশাসনকে নিলর্জ্জভাবে শাসকের পক্ষে ব্যবহার করা ইত্যাদি কোনোকিছু বাদ রাখা হয়নি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তো সংবিধান-আইনকে তুড়ি মেরে স্বৈরাচারী সর্বাধিনায়ক হয়ে উঠেছে। এহেন জ্ঞানেশকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করে গণতন্ত্রের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের পরিণত করাই বর্তমান আন্দোলনের লক্ষ্য। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অবৈধ কার্যকলাপের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের নিরুত্তাপ গড়িমসিতে অসন্তুষ্ট দেশের মানুষ চান সংবিধানের প্রহরী হিসাবে সর্বোচ্চ আদালতের অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা। চলমান আন্দোলনের মধ্যে এই মানসিকতাও সামনে আসবে আন্দোলনকারীদের আচরণে।
ধারাবাহিক সরকার বিরোধী আন্দোলনে মোদী সরকারের ভয় যত বাড়ছে ততই তারা হিংসাত্মক হয়ে উঠছে। বাড়ছে স্বৈরাচারী প্রবণতা। অনুভব করছে এই আন্দোলন চলতে থাকলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাই আন্দোলন দমনে একের পর এক সংবিধান বিরোধী, বেআইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। মানুষের প্রতিবাদের বিরোধিতার গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এমনকি যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ স্থল নিষিদ্ধ করেছে। অর্থাৎ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর সার্বিক অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। শাসকের বিরুদ্ধে মুখ খোলা যাবে না। প্রতিবাদ করা যাবে না। নির্বাচন হবে শাসকের শর্তে শাসকের জয়ের লক্ষ্যে। এমনটা গণতান্ত্রিক মানুষ মানবেন না। বিরোধীরা সমবেতভাবে সেই বার্তাই দিয়েছে। গণতান্ত্রিক ভারতে হিন্দুত্ববাদী স্বৈরাচারকে যে কোনও মূল্যে প্রতিরোধ করা হবে।
 

Comments :0

Login to leave a comment