Baruipur Rape Murder

বারুইপুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও এক

রাজ্য জেলা

বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সোমাবর আরেক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক নাবালিকাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পরে খুনের ঘটনায় রবিবার সকাল থেকে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে বারুইপুরের সূর্যপুর হাট এলাকা।‌ দফায় দফায় তুমুল বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধে নামেন হাজার হাজার ক্ষুব্ধ মানুষ। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে এসেছে। রিপোর্টে  ধর্ষণের ইঙ্গিত মিলেছে। মাথায় আঘাত করার পরে অচেতন হয়ে পড়লে নির্যাতিতাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং জলে ডুবে নির্যাতিতার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। তার যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঁচড়-কামড়ের দাগও রয়েছে। ধর্ষণের পর মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। 
সূর্যপুরে নিহত নাবালিকার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১২বছর বয়সি ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।‌ বন্ধুর জন্মদিনে উপহার দিতে যাচ্ছিল সে। তারপর আর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের তরফে রাতেই বারুইপুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়।‌ পরিবারের অভিযোগ, পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও তারা প্রথমে কোনও গুরুত্ব দেয়নি।‌ রাতেই তল্লাশি চালালে এভাবে প্রাণ দিতে হতো না তাঁদের মেয়েকে।‌
জানা গেছে, এলাকায় বিজেপি’র কর্মী-সমর্থক হিসাবে পরিচিত আনন্দ মণ্ডল, প্রভাস সরদার সহ অন্তত ৪ জন রাস্তা থেকে ওই  নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ন’টা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে তার ওপর জঘন্য অত্যাচার চালানো হয়। তার আগে ওই নাবালিকার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরে তা মিলবে না জেনে ধর্ষণ করে মেরে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
বস্তাবন্দি সেই দেহ উদ্ধারের পরেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্তদের ধরে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে দেন স্থানীয় মানুষ। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের হাতে ধরা পড়া অভিযুক্তদের বিজেপি’র স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি শান্তনু মণ্ডল ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে, একথা জানাজানি হতেই মানুষের ক্ষোভ চরমে ওঠে। তাঁরা বলতে থাকেন, অভিযুক্ত ধর্ষকদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে ওই বিজেপি নেতা, সাহায্য করেছে পুলিশও!
রবিবার সকালেই হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ বারুইপুর-জয়নগর সড়কে নেমে আসেন। নাবালিকার মৃতদেহ নিয়েই চলতে থাকে পথ অবরোধ, বিক্ষোভ। আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন এলাকার বাসিন্দারা। এরই মধ্যে মারধরের ঘটনায় মৃত্যু হয় ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামে এক যুবকের। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ওই যুবক ঘটনার সময় ধর্ষকদের সঙ্গেই ছিল। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ গিয়ে পড়ে তার ওপরে। পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর হয়েছে। অবরোধ, বিক্ষোভ হয় সূর্যপুর স্টেশনেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আহত হন পুলিশের লাঠিতে।
রবিবার সকাল থেকে সূর্যপুরের মানুষের ক্ষোভের আগুন যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাতে প্রমাদ গুনতে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামতে বাধ্য হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ‘অভিযুক্তদের কাউকে ছাড়া হবে না’ বলে আশ্বস্ত করে তিনি নিহত নাবালিকার পরিবারকে মঙ্গলবার ভবানী ভবনে দেখা করতে বলেছেন। আজও থমথমে পরিস্তিতি রয়েছে বারুইপুরে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর-নরেন্দ্রপুর-সোনারপুরে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। নাবালিকাকে ধর্ষণ খুনের অভিযোগের মামলার পাশাপাশি, মারধরের ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগেও দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে যে, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনকারী কাউকে পাওয়া গেলে ‘সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৪’-এর আওতায় পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।
নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে রবিবার একজনকে এবং সোমাবর আরেক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বারুইপুরে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। এখনও পর্যন্ত মোট ৩ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে আরও তিন জনকে আটক করা হয়েছে। এদিন সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘পরিবার যে ভাবে বিচার চেয়েছেন সেই ভাবে বিচার পাবেন।’’ কাউকে ছাড়া হবে না, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Comments :0

Login to leave a comment