বই
মুক্তধারা
বিদূষকের কথা
কৃশানু ভট্টাচার্য
প্রকাশিত হয়েছিল দুই বছর ধরে। কলকাতা শহরের বহু গন্যমান্য মানুষদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল এই পত্রিকা। তারপর নানা কারণে আর প্রকাশিত হয়নি। মানুষকে দিয়েছিল সবচেয়ে বেশি সম্মান। ১৯১৪ সালে জঙ্গিপুর মহকুমা থেকে প্রকাশিত হয়েছে জঙ্গিপুর সংবাদ। এই পত্রিকাটি চলেছে একশ বছর ধরে। পারিবারিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তার পৌত্র এই পত্রিকাটি একসময় সম্পাদনা করেছেন। অথচ সারা বাংলার মানুষ শরৎচন্দ্র পণ্ডিত বা দাদাঠাকুর কে চেনেন বিদূষক হিসেবেই। আর সেই কারণেই প্রথমে জঙ্গিপুর সংবাদ পত্রিকার পক্ষ থেকে দুই খন্ডে বিদূষক পত্রিকার নির্বাচিত রচনার সংকলন সেরা বিদূষক শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে এই বইটির অখণ্ড সংস্করণ সহজলভ্য।
একথা অনেকেই জানেন যে ১৩২৯ বঙ্গাব্দ বা ১৯২২ সাল থেকে ১৩৩১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাস পর্যন্ত শরৎচন্দ্র পণ্ডিত বিদুষক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।। এই পত্রিকার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কবিতার মধ্যে দিয়ে সংবাদ রচনা। তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় এই পত্রিকা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক ঘটনাবলীকে সহজ সরল ব্যাংকের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতেন শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। তিনি নিজে এই পত্রিকা লিখতেন সম্পাদনা করতেন, ছাপতেন এমনকি ঘরে ঘরে এই পত্রিকা হকারিও করতেন। পরিচয় দিতেন পত্রিকার এইড ইটার। শব্দ নিয়ে খেলবার তাঁর ছিল অনবদ্য দক্ষতা। জঙ্গিপুর সংবাদের পাশাপাশি এ পত্রিকাতেও তাই এ ধরনের অজস্র উদাহরণ পাওয়া যাবে। বিধান পরিষদ সদস্যদের বলা হত এম এল সি। দাদা ঠাকুর তাকে ব্যঙ্গ করে বানিয়ে ছিলেন মালসি। তাদের নিয়ে সংখ্যার পর সংখ্যায় নানা ধরনের রাজনৈতিক রসিকতা করেছেন বলিষ্ঠতার সঙ্গে। বাংলা রাজনৈতিক সংবাদের ক্ষেত্রে এ এক অঅনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কাউন্সিল গঞ্জিকা, কাউন্সিল চন্ডু কাউন্সিল সিদ্ধি শীর্ষক পদ্ম সংবাদের মধ্য দিয়ে সে সময়কার আইনসভার আলোচনা পাঠকদের কাছে তুলে ধরতেন দাদাঠাকুর।
সেরা বিদূষক বইটির দুটি খন্ড। প্রথম অংশে রয়েছে পদ্যে রচিত সংবাদের সন্দেশের ঝুড়ি কবিতা প্যারোডি এবং বিজ্ঞাপন বিচিত্রা। দ্বিতীয় অংশে রয়েছে পত্রিকার অন্যান্য রচনা। বর্তমানে বিলুপ্ত জঙ্গিপুর সংবাদের রঘুনাথগঞ্জের দপ্তরের সংরক্ষিত পুরাতন রেকর্ড থেকে সংগ্রহ করে জঙ্গিপুর সংবাদের শেষ সম্পাদক অনুত্তম পন্ডিত সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন।
সাংবাদিকতার আগ্রহী পাঠকদের কাছে এই সংকলনটি অবশ্যই একটি জরুরি গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সেরা বিদূষক
শরৎচন্দ্র পণ্ডিত (দাদা ঠাকুর)
মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড কলকাতা
Comments :0