অযোধ্যায় রামমন্দিরে লুট নিয়ে বিতর্কের মাঝে মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ট্রাস্টের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অনিল মিশ্রও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। অযোধ্যায় রামমন্দিরে প্রতিদিন চুরির ঘটনায় এসআইটি সরকারের কাছে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার মাত্র তিন দিন পরেই পদত্যাগ। সূত্রের খবর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ চম্পত রায় এবং অনিল মিশ্রকে ট্রাস্ট থেকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, তাঁরা দুজনেই ট্রাস্টের কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, যা ট্রাস্টের পরবর্তী কোনো সভায় বিবেচনা করা হবে। যেহেতু ট্রাস্ট একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, তাই রাম টেম্পল ট্রাস্টই এই সিদ্ধান্ত নেবে।
অযোধ্যায় রামমন্দিরে লুটের ঘটনায় এসআইটি সোমবার সরকারের কাছে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার একটি মামলা দায়ের করা হয়। আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে চম্পত রায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চালক তিনু যাদবও রয়েছেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন সুভাষ শ্রীবাস্তব, অনুকুল মিশ্র, লভকুশ মিশ্র, করুণেশ পান্ডে, মনীশ যাদব, অবিনাশ শুক্লা এবং রমাশঙ্কর মিশ্র।
সোমবার বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরপরই চম্পত রায়ের পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এসআইটি-র প্রাথমিক প্রতিবেদনে অনুদান প্রক্রিয়ায় অসংখ্য অনিয়ম প্রকাশ পেয়েছে। যদিও প্রতিবেদনটি এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানা যাচ্ছে যে রাম মন্দিরের জন্য প্রাপ্ত অনুদানে বেশ কিছু গরমিল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনায় আরও পদত্যাগ হতে পারে। এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আটজন অভিযুক্তকেই রিমান্ডের জন্য ফৈজাবাদের সিজেএম আদালতে হাজির করা হবে। অযোধ্যার এসএসপি গৌরব গ্রোভার জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযুক্তদর বিরুদ্ধে চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ নিয়ে খোদ নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে যে উন্মাদনা তৈরি করা হয় দেশে-বিদেশে তার জেরে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন মানুষ। আরএসএস ঘনিষ্ঠ বড় বড় শিল্পপতিরা যেমন দিয়েছেন, তেমনই চলচ্চিত্র জগতের ‘স্টার’রাও কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সবথেকে বেশি অর্থ দিয়েছেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। দান করেছেন বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপো সহ মূল্যবান রত্নের অলঙ্কার, বাসনপত্র। মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় ওই দিন পর্যন্ত ট্রাস্ট ৪৫৭৫ কোটি টাকা পেয়েছে দানে। বিগত পাঁচ বছর নয় মাসে মন্দির নির্মাণ, রামজন্মভূমি পরিসরের বিস্তার, জমি এবং বাড়ি কেনার জন্য ২৪৭৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তখন ট্রাস্টের হাতে ২১০০ কোটি টাকা ছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে যে হাজার হাজার দর্শনার্থী প্রতিদিন এসেছেন মন্দিরে, তারাও দানপাত্রে যে অর্থ দিয়েছে সেটাও বিপুল পরিমাণ। তার আলাদা করে কোনও হিসাব দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় এখন ভক্তদের দানের বিপুল অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে।
Ram Mandir
রাম মন্দিরে অনুদান চুরি বিতর্কের মাঝেই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের ইস্তফা, গ্রেপ্তার ৮
×
Comments :0