Nagrakata

জলস্তর বাড়ছে জলঢাকায়, আতঙ্কে গধেয়ারকুঠি ও নাগরাকাটার মানুষ

জেলা

ফের বন্যার কালো মেঘ উত্তরবঙ্গে। একদিকে ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা অসম্পূর্ণ ও নিম্নমানের বাঁধের কারণে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে নাগরাকাটায় ফের জলমগ্ন বহু এলাকা। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি নতুন ভাবে তাজা হয়ে ওঠায় দুই জায়গারই স্থানীয় মানুষের রাতের ঘুম উড়েছে। প্রায় আট মাস আগে জলঢাকার রুদ্র রূপ ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের হোগলারটারি ও কুল্লাপাড়ার বহু মানুষের বসতভিটা কেড়ে নিয়েছিল। গত ৫ অক্টোবর জলঢাকার বাঁধ ভেঙে অনেকেই ঘরছাড়া হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাঁধের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে জলঢাকার জলস্তর ফের বাড়তে থাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এপ্রিল মাসে বাঁধের কাজ শুরু হলেও তা অত্যন্ত ধীরগতিতে এবং নিম্নমানের হচ্ছে। শুধুমাত্র বালি দিয়ে দায়সারা ভাবে বাঁধ মেরামতির চেষ্টা করা হয়েছে, যা বৃষ্টির জলে অনায়াসেই ধুয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা চম্পক নাগের কথায়, ‘‘আমরা অনেক কষ্ট করে কোনোক্রমে আবার ঘর তৈরি করেছিলাম। কিন্তু যেভাবে বাঁধের কাজ চলছে, তাতে ফের বন্যা হলে আমরা সম্বলহীন হয়ে পড়ব।’’


পঞ্চায়েত প্রধান স্বীকার করেছেন যে, নিম্নমানের কাজের ফলে বৃষ্টির জলে বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে। বিডিও সোমনাথ হালদার জানিয়েছেন, বিষয়টি সেচ দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
একই চিত্র নাগরাকাটাতেও। টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। গত মে মাসের পর গত রবিবার ফের বন্যার কবলে পড়ে এলাকাটি। বিশেষ ভাবে বামনডাঙ্গা চা বাগানের মডেল ভিলেজ ও ১৮ নম্বর লাইনের বাসিন্দারা প্রাণের ভয়ে রাতের বেলা চা বাগানের ফ্যাক্টরির নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ অক্টোবর সুখানি নদীর বাঁধ ভেঙে ১২ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক স্মৃতি এলাকাবাসীকে এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সেই সময় ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত হলেও রবিবারের বন্যায় তা ফের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০০টি বাড়ি জলমগ্ন।
নাগরাকাটার বিডিও জয়প্রকাশ মন্ডল জানিয়েছেন, ৩রা জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রশাসনিক আশ্বাসের পরেও বাসিন্দাদের উদ্বেগ কমছে না। দুই ব্লকের মানুষ এখন দ্রুত উন্নতমানের বাঁধ ও প্রশাসনিক নিরাপত্তার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন।

Comments :0

Login to leave a comment