গল্প
মুক্তধারা
-------------------------------
দুঃসময়
-------------------------------
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
হঠাৎ কেমন মনটা খারাপ হয়ে গেল সুব্রতর। গ্ৰামটা সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ। যাকে বলে একধরণের শূন্যতা ঘিরে রয়েছে গোটা বসন্তপুর গ্ৰামটাকেকে। সুব্রতর চোখে পড়ে মোবারক চাচাকে। একা একা হেঁটে আসছে।তীব্র রোদ,ছাতা নেই,ঘাম ঝরছে শরীর থেকে। তার পেছনে রহিমা চাচী ,অরবিন্দ জেঠু, জেঠিমা সব হেঁটে যাচ্ছে। অরবিন্দ জেঠু যেতে যেতে একবার মুখটা তুলে সুব্রতদের বাড়ির দিকে তাকালো। উৎসুক চোখে সুব্রত তাকায়, জিজ্ঞেস করে -'কি জেঠু,এই ভরদুপুরে তোমরা সব কোথা থেকে?'
অরবিন্দ বাবু,' আনমনে তাকিয়ে সুব্রতকে বললেন-
'কবে এলি বাবা'
-এই তো কাল ফিরলাম,কদিন থেকে চলে যাব'
-'তোর ভোট আছে বাবা?'
সুব্রত একটু অবাক হয়ে মাথা নাড়লো,-হ্যাঁ তো, আমার তো ভোট এখানে নয়,আমার গাঁয়ে,কেন জেঠু?'
-আর কেন আমাদের এ গোটা গ্ৰামে কারূর ভোট নেই,তাই তো কিছু একটা হিল্লে করার জন্য বেরিয়েছি'।
আশ্চর্য হয়ে যায় সুব্রত,এত বড়ো গ্ৰামে কেউ ভোট দিতে পারবে না।ছেঁড়া জেঠী,চাচা চাচী যাদের এতবছর ধরে চেনে সে,তারা ভোটের অধিকার হারালো! আজ তাদের এদিক ওদিক ঘুরতে হচ্ছে!
সুব্রত বুঝতে পারে না এ ভারতবর্ষকে। কেমন অচেনা লাগে।খানিক চুপচাপ চেয়ে নেমে আসে ঘর থেকে,অরবিন্দ জেঠুর হাত ধরে বলে-
'ভেবো না জেঠু, তোমাদের পাশে আছি, আছে আমার মতো অনেক, তোমাদের কিছু ব্যবস্থা হবেই'
অরবিন্দ বাবু আর সকলে একটু ভরসা পায় সুব্রতর কথায়,তার কাঁধ দুটো ঝাঁকিয়ে দিয়ে এগিয়ে চলে ঘরের দিকে।
Comments :0