খ্রীস্টান ধর্মযাজক গ্রাহাম স্টেইনস হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত দারা সিং-কে মুক্তি দিতে পারে ওড়িশা সরকার। ওড়িশার সাজা পুনর্বিবেচনা কমিটি দারা সিংয়ের মুক্তির সুপারিশও করেছে।
ওড়িশার সরকারে এখন আসীন বিজেপি। একটি জাতীয় দৈনিক দারা সিংয়ের আইনজীবী এপি সিং-কে উদ্ধৃত করে বলেছে যে গত ৬ জুলাই পুনর্বিবেচনা কমিটির বৈঠক হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মোট ৫৬ জনের সাজা পুনর্বিবেচনা করার সুপারিশ করা হয়। তার মধ্যে দারা সিংয়ের নামও রয়েছে।
১৯৯৯-তে ওড়িশার কেওনঝড়ে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক গ্রাম স্টেইনসকে হত্যা করা হয়েছিল। দারা সিংয়ের নেতৃত্বে একটি হিংস্র বাহিনী গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আরএসএস’র অন্যতম সংগঠন বজরঙ দলের সদস্য ছিল এই দারা সিং। হত্যা করা হয় তাঁর দুই শিশুপুত্রকেও। নিষ্ঠুরতার অভিঘাতে সারা দেশে ছড়িয়েছিল প্রতিবাদ।
সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, আগামী ১৯ আগস্ট এই মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চ ওড়িশা সরকারের আইনজীবীকে বলেছে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে। যাতে ১৫ আগস্টের আগে মুক্তি পেতে পারে দারা সিং।
দারা সিংয়ের আসল নাম রবীন্দ্র কুমার পাল। আদি বাড়ি উত্তর প্রদেশে। গ্রাহাম স্টেইনস হত্যায় অপরাধী হিসেবে পঁচিশ বছর বন্দি কেওনঝড় জেলে। তাকে ২০০ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। মোট ৫০ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ১৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে। তিন বছরের মধ্যে ছাড় দেওয়া হয় ৩৭ অভিযুক্তকে। কিন্তু দারা সিং-কে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়নি।
ভুবনেশ্বরের সিবিআই আদালত দারা সিংয়ের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ২০০৩সালে। আরও ১২ জনের যাবজ্জীবন দিয়েছিল। ওড়িশা হাইকোর্ট ১১ জন সহ-অভিযুক্তকে ধীরে ধীরে মুক্তি দেয়।
জানা গিয়েছে, ওড়িশার সাজা পুনর্বিবেচনা কমিটি জেলে ‘ভালো ব্যবহারের’ কারণে দারা সিংয়ের নাম সুপারিশ করেছে।
এর আগে বিজেপি শাসিত গুজরাট সরকার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সমন্বয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ধর্ষণ এবং হত্যায় দণ্ডিতদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট ফের তাদের জেলে পাঠায়।
Dara Singh Odisha
গ্রাহাম স্টেইনস হত্যায় দণ্ডিত দারা সিংকে ছাড়ানোর তৎপরতা ওড়িশার
পরিবারের সঙ্গে গ্রাহাম স্টেইনস। এই খ্রীস্টান যাজককে হত্যা করা হয়েছি কেওনঝড়ে।
×
Comments :0