Farmers unable to sell

হাসনাবাদ ফড়ের দাপটে ধান বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা, উদাসীন প্রশাসন

জেলা

ছবি:মান্ডিতে এভাবেই ধান ফেলে রেখে অপেক্ষা শেষে খালি হাতে ফিরতে হয় কৃষকদের।

কৃষক মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে না পেরে চরম দুর্দশায় কৃষকরা। অভিযোগ,ফড়েদের দাপাদাপি মান্ডিতে। হেলদোল নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের।
বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার ঘটনা। বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার প্রকৃত কৃষকরা বর্তমানে চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মাঠে ফলানো ধান কেটে সরকারি কৃষক মান্ডিতে নিয়ে এসেও তাঁরা ধান বিক্রি করতে পারছেন না বলে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসছে। ধান বিক্রির আশায় ভোর থেকেই মান্ডিতে লাইনে দাঁড়িয়েও দিনের শেষে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে বহু কৃষককে।
স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্য, সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এম এস পি) ধান বিক্রির জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, টোকেন ও কোটা এই সব নিয়মের জটিলতার কারণেই আসল কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকের নাম তালিকায় থাকলেও কখনও সার্ভার সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, আবার কখনও বলা হচ্ছে ওই দিনের কোটা পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে ধান গাড়িতে তুলেই অপেক্ষা করতে করতে দিনের পর দিন। সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হচ্ছে। তাদের এও অভিযোগ,আমরা নিজের জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু মান্ডিতে এসে শুনছি নাম নেই। অথচ অন্য লোকেরা সহজেই ধান দিয়ে টাকা পেয়ে যাচ্ছে। ধান কাটতে মজুরি বেড়েছে,পরিবহণ খরচ বেড়েছে। এখন যদি কম দামে খোলা বাজারে ধান বিক্রি করতে হয়, তাহলে আমাদের লোকসান ছাড়া আর কিছু থাকবে না।
কৃষকদের আরও দাবি, প্রকৃত চাষিদের বদলে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ী সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁদের কথায়, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামীদিনে চাষ করাই কঠিন হয়ে পড়বে। এমনিতেই বাজারে দেনা। চিন্তায় ঘুম উড়েছে। সংসার চালানো নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন তারা।
এই বিষয়ে হাসনাবাদ ব্লকের বিডিও সমীর মন্ডল জানান,সরকারি নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনেই ধান কেনা হচ্ছে। যাঁদের সমস্ত নথিপত্র ঠিক রয়েছে এবং অনলাইন পোর্টালে নাম নথিভুক্ত আছে, তাঁদের ধান পর্যায়ক্রমে কেনা হবে। কোথাও যদি কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকে, তাহলে কৃষকরা সরাসরি ব্লক অফিসে জানালে তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও জানান, প্রকৃত কৃষকরাই যাতে অগ্রাধিকার পান, সেই বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
তবে কৃষকদের বক্তব্য, শুধু আশ্বাসে সমস্যা মিটবে না। দ্রুত টোকেন দেওয়া, কোটা বাড়ানো এবং মান্ডিতে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা না হলে তাঁদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। এখন তাঁদের একটাই প্রশ্ন—কৃষক মান্ডিতেই যদি ধান বিক্রি করা না যায়, তাহলে কৃষকের ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়াবে?
 

Comments :0

Login to leave a comment