জেলবন্দি সমাজকর্মী উমর খালিদকে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির চিঠি পাঠানো এবং সংহতি প্রকাশকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল ভারত। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্য দেশের বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার প্রতি মামদানির সচেতন হওয়া উচিত।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আমরা আশা করি যে কোনও গণতান্ত্রিক দেশের জনপ্রতিনিধিরা অন্য দেশের বিচারবিভাগের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। পদে থেকে ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ করা শোভা পায় না। এই ধরনের মন্তব্য করার চেয়ে নিজের দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করা তাদের জন্য শ্রেয়।"
গত মাসে উমর খালিদের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন নিউইয়র্কের মেয়র। সেই সময় তিনি খালিদের উদ্দেশ্যে একটি হাতে লেখা চিঠি তাদের হাতে তুলে দেন। চিঠিতে মামদানি লেখেন, "প্রিয় উমর, তোমার কথাগুলো আমি প্রায়ই ভাবি। নিজেকে হতাশায় হারিয়ে না ফেলা যে কতটা জরুরি, তা তোমার কথা থেকে বুঝেছি। তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে খুব ভালো লাগল। আমরা সবাই তোমার কথা ভাবছি।"
উমর খালিদের প্রতি মামদানির সমর্থন নতুন নয়। ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্কিন সফরের সময় একটি প্রতিবাদ সভায় মামদানি উমর খালিদের কারাবাসের ডায়েরি থেকে বেশ কিছু অংশ পড়ে শুনিয়েছিলেন। খালিদের বাবা সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস জানান, গত ৯ ডিসেম্বর তিনি মামদানির সঙ্গে দেখা করেন। ইলিয়াস বলেন, "উনি জানিয়েছেন যে উমরের বন্দিদশা নিয়ে উনি সব সময় ভাবেন এবং এখন উমরের জামিন পাওয়া উচিত।"
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত প্রায় পাচ বছর ধরে জেলবন্দি রয়েছেন উমর খালিদ। ওই হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সম্প্রতি বোনের বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য ১৬ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছিল।
বিদেশ মন্ত্রকের এই বার্তা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর শুল্ক চাপায় তখন ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তার কোন কড়া সমালোচনা করতে পারে না। ভারত বিদেশ মন্ত্রক চুপ থাকে যখন ট্রাম্প ভারত পাকিস্তানের সামরিক সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক চুপ করে থাকে যখন গাজায় নির্বিচারে মানুষ মারা হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক চুপ করে থাকে যখন একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে রাতের অন্ধকারে গ্রেপ্তার করে মার্কিন বাহিনী।
উল্লেখ্য উমর খালিদ, শারজিল ইমামদের বিরুদ্ধে এখনও কোন অপরাধ প্রমান করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। সিএএ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম সারিতে ছিলেন জহল লাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পড়ুয়া। সেই প্রতি হিংসা থেকে তাদের জেলে আটকে রাখছে সরকার। বলে রাখা ভালো তৃণমূলের যেই সব নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে সিবিআই, ইডির ব্যার্থতার জন্য।
Umar Khalid - Mamdani
উমরকে মামদানি চিঠি নিয়ে সরব বিদেশ মন্ত্রক, নতজানু ট্রাম্পের হুমকির কাছে
×
Comments :0